টাঙ্গাইলে ট্রাক উল্টে নিহত ১৭, আহত ১০

টাঙ্গাইলের যমুনা সেতুর পূর্বপাড় এলাকায় রড ভর্তি একটি ট্রাক উল্টে অন্তত ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৫ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি সড়কের পাশে উল্টে গেলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

জুলাই বিপ্লবের পরে পদ হারালেন, ফিরে এলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হয়ে

  বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে জুলাই আন্দোলনের পর ডেপুটি গভর্নরের পদ হারানো মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ রোববার ব্যাংকটির চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগের পরই নতুন এ নিয়োগ দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত চিঠি দিয়ে নিয়োগের বিষয়টি ইসলামী ব্যাংককে জানিয়েছে। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। এখন খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শে অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। আগের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পদত্যাগের পর গতবছরের ২৩ জুলাই তাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এদিকে, ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আন্দোলনের মুখে আজ ব্যাংকটির পূর্ব নির্ধারিত পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজধানীর দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ সভা হওয়ার কথা ছিল। পর্ষদ সভায় এসে বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খান পদত্যাগ করবেন এমন আলোচনা ছিল। এর আগে গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে তাকে ৪৯ দিনের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। আগামী ৩১ মে তার ছুটি শেষ হওয়ার কথা। আজ ওমর ফারুক প্রধান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলেও আন্দোলনকারীরা তাকে ব্যাংকে ঢুকতে দেয়নি। যদিও একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনিও ব্যাংকের চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র দিয়ে গেছেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রেজা আটক

ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগে ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এনসিপি নেতা তারেক রেজা আজ সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তারেক রেজা জুলাই বিপ্লবের সময়ে শহীদ মিনারে অসংখ্য জানাজায় ইমামতি করেন। তাকে আটকের পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে শনিবার এনসিপি নেতা তারেক রেজাসহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান।

গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদি হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জেরে পরদিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন।

ঈদের দিনে ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার দুই আয়োজন: শহীদ-গাজী পরিবারে কুরবানী ও শিক্ষার্থীদের ‘সফরা এ ঈদ’

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দুইটি ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “জুলাই শহীদদের স্মরণে কুরবানী কর্মসূচি-২৬” এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে “সফরা এ ঈদ” শীর্ষক আয়োজন ঈদের দিন অনুষ্ঠিত হবে।   সংগঠনটি জানায়, ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সাহস, সচেতনতা ও গণমানুষের অধিকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাজপথ থেকে জনমত গঠন সর্বত্রই শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল দৃশ্যমান। সেই আন্দোলনে শহীদ ও গাজীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   “জুলাই শহীদদের স্মরণে কুরবানী কর্মসূচি-২৬”-এর আওতায় ঢাকায় অবস্থানরত জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও গাজী পরিবারগুলোর জন্য পশু কুরবানী, মাংস বিতরণ এবং মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানান, যেসব পরিবার এবার কুরবানী দেওয়ার সামর্থ্য রাখেননি, তাদের পাশে দাঁড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।   সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “যাদের আত্মত্যাগে আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারি, তাদের পরিবারগুলোর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও দায়িত্ববোধ থেকেই আমাদের এই আয়োজন।” একই সঙ্গে শহীদদের জন্য দোয়া এবং গাজীদের সুস্থতা কামনাও করা হয়।   অন্যদিকে, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঢাকায় অবস্থানরত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে ‘সফরা এ ঈদ’। ঈদের দিন দুপুর ২টায় উত্তরা ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি ভোজ ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরাও এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য একটি গুগল ফরম পূরণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখা।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডির পদত্যাগ

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষে আবারও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। রোববার (২৪ মে) কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যাংকটির এমডি ও চেয়ারম্যান দুজনেই পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে এমডিকে ‌পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং চেয়ারম্যান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। তাছাড়া এই দিন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সভা হয়নি। জানা গেছে, দুপুরের আগেই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন ব্যাংকে যান। তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে এমন একটা গুঞ্জন ছিল। একারণে ব্যাংকটির একদল কর্মকর্তা রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে। তবে শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে যান ওমর ফারুক খাঁন। এদিকে বিকেলে চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানও পদত্যাগ করেছেন বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। ওমর ফারুক খাঁন জানান, চেয়ারম্যানের অব্যাহত চাপের মুখে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসেছেন। এটি ব্যাংকের পর্ষদে ওঠার কথা। কিন্তু পর্ষদের সভা না হওয়া এবং চেয়ারম্যান পদত্যাগ করায় আবেদনের বিষয়টি অনুমোদন হয়নি। এদিকে ব্যাংকটিতে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার সকালে মতিঝিলে মানববন্ধন করেছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। সকাল সাড়ে ১০টায় ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এ সময় তারা ব্যাংক পরিচালনা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়ম বন্ধের দাবি জানান। এর আগে গত ১২ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খাঁনকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। ওইদিন ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পর্ষদ সভায় এমডিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ওমর ফারুক খাঁনের অনুপস্থিতিতে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মো. আলতাফ হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেসময় জানানো হয় ওমর ফারুক খাঁন ৩১ মে পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন। তবে ২৫ মে থেকে কোরবানীর ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় ২৪ মে শেষ কর্মদিবস হিসেবে ব্যাংকে আসেন ওমর ফারুক খাঁন। কিন্তু অব্যাহত চাপের মুখে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাতে সাড়া দেননি। পদত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তার কোনো জবাব দেননি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া তৎকালীন এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় ২০২৫ সালের মে মাসে তাকে অপসারণ করা হয়। পরে ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিয়ে ওমর ফারুক খাঁনকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সার্বিক বিষয়ে জানতে ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (এসএভিপি) মো. সুলতান উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও তাতে সাড়া দেননি।  

বান্দরবানে ঘুমধুম সীমান্তে মায়ানমারে পুতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে নিহত ৩ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট: রবিবার (২৪ মে) দুপুরে ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টের ৪২নং পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- মৃত ঞোমং তংচঙ্গ্যা ছেলে অক্যমং তংচঙ্গ্য (৪০), মৃত উইমং তংচঙ্গ্যার ছেলে চিক্যং তংচঙ্গ্য (৩৪), সুনি অং তংচঙ্গ্যা ছেলে শৈফুচিং তংচঙ্গ্য (৩২)। তারা সবাই ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুর ১টার দিকে তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড এর ৪২নং পিলার সংলগ্ন এলাকায় কলাবাগানে কাজ করতে যান এই তিনজন। এ সময় সীমান্ত এলাকায় মায়ানমারের পুতে রাখা স্থলমাইন হঠাৎ বিস্ফোরণ হলে অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা নিহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করতে গেলে অপর দুজনও মাইন বিস্ফোরণে নিহত হন।   ঘুমধুমের স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফলের বাগানে কাজ করার সময় তিনটি মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হঠাৎ বিস্ফোরণে শুরুতে এক বাগানচাষি গুরুতর আহত হন। সঙ্গীরা দৌড়ে তাঁকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেখানে আরেকজন গুরুতর আহত হন। আহত ওই দুজনকে উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় আরেকটি বিস্ফোরণের ঘটনায় আরেকজন আহত হন। উপর্যুপরি তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনায় কাজ করতে যাওয়া লোকজন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পাড়ায় এসে সংবাদ দেয়। পাড়াবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পেয়েছেন। ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক সদস্য বাবুল কান্তি চাকমা জানিয়েছেন, ভালুকিয়াপাড়াসহ সীমান্তের কাছাকাছি মানুষ সবাই শূন্যরেখা বজায় রেখে ফলের বাগানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করেন। এটি তাঁদের জীবন-জীবিকা একমাত্র উপায়। গত বছরও বাগানের কাজ করতে গিয়ে দুজন নিখোঁজ হয়েছেন। এখনো তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বনে সবজি খুঁজতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে একজন নারী দুই পা হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আগের দুজনের নিখোঁজ, পা হারানো ঘটনাসহ আজকের তিনজনের মৃত্যুতে সীমান্তের মানুষ আতঙ্কে রয়েছে বলে বাবুল কান্তি জানিয়েছেন।

৫০০ টাকা ছাড়া ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষর নয়, অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে

  ডেস্ক রিপোর্ট: রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষরের বিনিময়ে জনপ্রতি ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৩ মে) দুপুরে ব্যাবহারিক খাতায় স্বাক্ষর বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তাদের পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও কৃষি বিষয়ের ব্যাবহারিক পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার আগে ব্যাবহারিক খাতায় শ্রেণি শিক্ষকের স্বাক্ষর নেওয়া বাধ্যতামূলক। ফরম পূরণের সময় সব ধরনের ফি পরিশোধ করলেও এখন আবার ৫০০ টাকা ছাড়া শিক্ষকেরা খাতায় স্বাক্ষর করছেন না। শিক্ষার্থীরা আরও জানান, অনেকেই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। শিক্ষকদের কাছে ৫০০ টাকা সামান্য মনে হলেও তাদের জন্য এটি বড় চাপ। কেউ প্রতিবাদ করলে ব্যাবহারিকে নম্বর কমিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় ভয়ে মুখ খুলছেন না তারা। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, প্রতিষ্ঠানের ৫৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে। অধ্যক্ষের নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু শিক্ষার্থী টাকা জমা দিয়েছে, বাকিরাও কয়েক দিনের মধ্যে জমা দেবে। অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ মাহেদুল আলম বলেন, সিওমার্কের ফটোকপি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ এ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এমন অর্থ নেওয়া হয়। তবে এটি আইনগতভাবে বৈধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সব প্রতিষ্ঠানেই এটা নেওয়া হয়।” এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ব্যাবহারিক খাতা স্বাক্ষরের জন্য ৫০০ টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জকসুর উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ায় ৫০ শতাংশ ছাড়!

  ডেস্ক রিপোর্ট: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটির সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অ্যাম্বুলেন্স সেবায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হচ্ছে। জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ঢাকার বাইরে নিজ বাড়িতে নেওয়া কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার ক্ষেত্রে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে দেশের একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে জকসু। চুক্তি অনুযায়ী, খুব দ্রুতই জবি শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরের মধ্যে এবং ঢাকা থেকে দেশের যেকোনো জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছাড়মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পাবেন। একইভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসার ক্ষেত্রেও এ সুবিধা কার্যকর হবে। জকসু সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় সমাজসেবা সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই শেষে এ সেবা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়াও দেখা গেছে।   এ বিষয়ে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় জরুরি মুহূর্তে অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যাতায়াত বা গ্রামের বাড়ি থেকে জরুরি ভিত্তিতে আসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পান না।” তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় অসুস্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ঢাকা শহরের বাইরে কিংবা নিজ নিজ গ্রামে যেতে হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জকসু দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটি’র সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আসছিল। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটি জবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে সম্মত হয়েছে।” জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আমাদের কাছে সবসময় অগ্রাধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সহায়তা পেতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে দূরবর্তী গন্তব্যে বা ঢাকার বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই সংকট আরও প্রকট হয়। এই সেবা চালু হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।”

বান্ধবী সহ আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে চবি ছাত্রদল নেতা আটক

  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে নিয়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন জোবরা এলাকার একটি বাসায় ‘আপত্তিকর অবস্থায়’ স্থানীয়দের হাতে আটক হয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। গতবছর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, নিজের এমন অপকর্ম আড়াল করতে এ ঘটনায় অন্য দুই শিক্ষার্থীর নাম জড়ানোর চেষ্টা করেছেন ছাত্রদলের এই নেতা। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। গতকাল শনিবার (২৩ মে) গভীর রাতে জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২নং রোড কে. জে. এম টাওয়ারের পাশের ভবন থেকে স্থানীয়দের হাতে আটক হন অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। পরে তাকে উপস্থিত স্থানীয়রা মারধর করেন। এসময় তার সঙ্গে এক নারী সহপাঠী ছিলেন। যিনিও চবির শিক্ষার্থী। বাসাটিতে ছাত্রদলের ওই নেতা থাকতেন। এ ঘটনার আগে গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) চাকসুর উদ্যোগে পর্দাশীল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ক্যান্টিনে ‘ছাত্রী কর্নার’ চালু করা হলে তা নিয়ে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েন ছাত্রদলের এই নেতা। জানা যায়, ঘটনার পর ‘মিডিয়া অফ জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শনিবার রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির শুরুতে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানের নাম ‘সাকিব রহমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে সেটি পরিবর্তন করে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তীর নাম যুক্ত করা হয়। কিন্তু দোষ চাপানো এ দুই শিক্ষার্থী ঘটনার আগেই ঈদের ছুটিতে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নাজিফা তাসনিম প্রিয়ন্তী আগেই ক্যাম্পাস ত্যাগ করেছেন। এছাড়া মিডিয়া অফ জোবরা- ফতেহপুর পেজের বিষয়টি নজরে এলে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে আজ সকালে তিনি সিরাজগঞ্জের নিজ বাড়ির সামনে থেকে লাইভে এসে বলেন, গত ২২ তারিখ আমি আমার কয়েকজন বন্ধুর সাথে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে এসেছি। আমি এখনো বাড়িতে। সম্পূর্ণ ভুয়া তথ্য দিয়ে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। জানা গেছে, গত ৩ মে প্রিয়ন্তী শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো এবং ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে প্রক্টর বরাবর বিচার দাবি করেন। এদিকে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান ও মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন দুজনেই শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে সক্রিয়। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সাকিফ রহমানকে একাধিকবার ফোন করলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়। তবে এর আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ও (মেয়ে) সকাল ৬টার বাসের টিকিট কেটেছিল। আমরা কয়েকজন মিলে রাতে ঘুরাঘুরি ও নাইট আউট করার পরিকল্পনা করেছিলাম। খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রথমে হাটহাজারীতে খেতে যাই। পরে জোবরা এলাকার একটি দোকানের সামনে মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সে ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার কথা বলে। তিনি আরও বলেন, আমার বাসার সামনে আসার পর তাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু সেখানে কয়েকজন ছেলে অবস্থান করছিল, তাই জায়গাটি নিরাপদ মনে হয়নি। পরে তাকে বাসার ভেতরে বসতে বলি এবং জানাই যে আমি গোসল করে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাব। আমি গোসলে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কয়েকজন দরজায় নক করতে শুরু করে। দরজা খুললে তারা জানতে চায় বাসার ভেতরে কোনো মেয়ে আছে কি না। আমি তাদের পুরো বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করি। গোসল থেকে বের হওয়ায় তখন আমার শরীর ভেজা ছিল এবং গায়ে কাপড় ছিল না। একপর্যায়ে তারা আমাদের মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়। জানতে চাইলে চবি শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করেছি। তদন্তের মাধ্যমে যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কেন্দ্র মিলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায়কারী যে-ই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে চবির সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, এরকম একটা ঘটনার খবর পেয়ে আমরা গিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ঈদের ছুটি থাকায় পরবর্তীতে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে যে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটি বিশ্ববিদ্যালয় নেবে।

Sugar Casino: Wo finden Sie die besten Jackpot-Angebote?

Sugar Casino ist eine der aufstrebenden Plattformen im Online-Glücksspiel und bietet Spielern ein aufregendes Erlebnis, insbesondere wenn es um Jackpot-Angebote geht. Für diejenigen, die die besten Jackpot-Angebote suchen, ist es wichtig, die Plattform zu erkunden und die verschiedenen Möglichkeiten zu verstehen. Auf https://waldhausberlin.de/ können interessierte Spieler eine detaillierte Übersicht über die Angebote finden.

Vielfalt der Jackpot-Spiele

Die Auswahl an Jackpot-Spielen bei Sugar Casino ist beeindruckend. Von klassischen Spielautomaten über progressive Jackpots bis hin zu speziellen Themen-Slots – die Vielfalt ist groß. Spieler können Spiele von namhaften Anbietern wie NetEnt, Microgaming und Play’n GO erwarten. Diese Spiele bieten nicht nur hohe Einsätze, sondern auch spannende Spielerlebnisse und großartige Grafiken.

Ein großer Vorteil von Sugar Casino ist die Möglichkeit, die Spiele nach Jackpot-Größe zu filtern. Dies ermöglicht es Spielern, gezielt nach den höchsten Gewinnen zu suchen und sich auf die Spiele zu konzentrieren, die die besten Gewinnchancen bieten.

Bonussystem und Aktionen

Das Bonussystem von Sugar Casino trägt zur Attraktivität der Jackpot-Angebote bei. Neue Spieler können von Willkommensboni profitieren, die oft Freispiele oder Einzahlungsboni umfassen. Diese Boni können für Jackpot-Spiele verwendet werden, was den Spielern zusätzliche Gewinnchancen bietet.

Darüber hinaus veranstaltet Sugar Casino regelmäßig Aktionen, bei denen Spieler an speziellen Jackpot-Turnieren teilnehmen können. Diese Wettbewerbe bieten die Möglichkeit, große Preise zu gewinnen und die Konkurrenz mit anderen Spielern zu erleben.

Zuverlässigkeit und Sicherheit

Für geplante Spieler ist es entscheidend, dass die Plattform zuverlässig ist. Sugar Casino besitzt eine Lizenz, die den strengen regulatorischen Anforderungen entspricht. Dies stellt sicher, dass das Glücksspiel sicher ist und die Spieler fair behandelt werden. Zudem werden die Daten der Spieler durch moderne Verschlüsselungstechnologien geschützt.

Die Plattform fördert verantwortungsbewusstes Spielverhalten und bietet Tools, die es den Spielern ermöglichen, ihr Spielverhalten zu überwachen und gegebenenfalls einzuschränken.

Spielanleitung für Jackpot-Fans

Für Spieler, die neu im Jackpot-Gaming sind, ist es ratsam, ein gewisses Grundwissen zu erwerben. Die folgenden Punkte bieten eine nützliche Anleitung:

  • Verstehen Sie die verschiedenen Jackpot-Arten: fest und progressiv.
  • Nutzen Sie die Demo-Versionen der Spiele, um Strategien zu testen.
  • Informieren Sie sich über die Volatilität der Spiele.
  • Halten Sie Ausschau nach speziellen Aktionen und Turnieren.
  • Setzen Sie sich ein Budget und halten Sie sich daran.
Jackpot-Art Beispielspiel Gewinnpotential
Progressiv Mega Moolah Millionenbeträge
Fest Cash Splash Bis zu 100.000 €

Häufig gestellte Fragen (FAQ)

1. Welche Jackpot-Spiele gibt es bei Sugar Casino?
Es gibt eine Vielzahl von Jackpot-Spielen, darunter sowohl progressive als auch feste Jackpots von renommierten Anbietern.

2. Sind die Boni nutzbar für Jackpot-Spiele?
Ja, die Willkommensboni und andere Aktionen können für Jackpot-Spiele eingesetzt werden und erhöhen die Gewinnchancen.

3. Wie sicher ist das Spielen bei Sugar Casino?
Die Plattform ist lizenziert und verwendet moderne Sicherheitsmaßnahmen, um die Daten der Spieler zu schützen.