ডেস্ক রিপোর্ট:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা সহজ ও সাশ্রয়ী করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)। সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটির সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অ্যাম্বুলেন্স সেবায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করা হচ্ছে।
জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য বর্তমানে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। ফলে জরুরি মুহূর্তে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ শিক্ষার্থীদের ঢাকার বাইরে নিজ বাড়িতে নেওয়া কিংবা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনার ক্ষেত্রে এই সংকট আরও প্রকট হয়ে ওঠে।
দীর্ঘদিনের এ সমস্যার সমাধানে দেশের একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে জকসু। চুক্তি অনুযায়ী, খুব দ্রুতই জবি শিক্ষার্থীরা ঢাকা শহরের মধ্যে এবং ঢাকা থেকে দেশের যেকোনো জেলায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে ছাড়মূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পাবেন। একইভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় আসার ক্ষেত্রেও এ সুবিধা কার্যকর হবে।
জকসু সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় সমাজসেবা সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে যাচাই-বাছাই শেষে এ সেবা নিশ্চিত করা হবে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়াও দেখা গেছে।
এ বিষয়ে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকায় জরুরি মুহূর্তে অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েন। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যাতায়াত বা গ্রামের বাড়ি থেকে জরুরি ভিত্তিতে আসার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা পান না।”
তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় অসুস্থতার কারণে শিক্ষার্থীদের ঢাকা শহরের বাইরে কিংবা নিজ নিজ গ্রামে যেতে হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া সম্ভব হয় না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জকসু দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘সোসাইটি ফর ন্যাশনাল চ্যারিটি’র সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আসছিল। অবশেষে প্রতিষ্ঠানটি জবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ ছাড়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা দিতে সম্মত হয়েছে।”
জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ গণমাধ্যমকে বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আমাদের কাছে সবসময় অগ্রাধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সহায়তা পেতে সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে দূরবর্তী গন্তব্যে বা ঢাকার বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে এই সংকট আরও প্রকট হয়। এই সেবা চালু হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সমস্যা অনেকটা কমে আসবে।”
