পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টির দাপটে আবারও প্রকোপ নেমে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে কেবল এই প্রদেশেই নিহত হয়েছেন ৩২৮ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১২০ জন। শনিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই মর্মান্তিক তথ্য প্রকাশ করেছে।
খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, ধসে পড়া ঘরবাড়ি ও মাটির স্তূপের নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধারে প্রায় দুই হাজার উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। নয়টি পাহাড়ি জেলায় জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম চলছে। তবে প্রবল বর্ষণ উদ্ধার প্রচেষ্টা ব্যাহত করছে। সংস্থার মুখপাত্র বিলাল আহমেদ ফয়েজি জানান, ভূমিধস ও সড়ক পানির তলে চলে যাওয়ায় ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি ও অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা পায়ে হেঁটে দুর্গম এলাকায় প্রবেশ করছেন।
বুনের, বাজৌর, সোয়াত, শাংলা, মানসেহরা ও বাট্টাগ্রামসহ ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি জেলাগুলোকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করেছে প্রাদেশিক সরকার। সোয়াত জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে, সড়ক কাদাপানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক গাড়ি অর্ধেক কাদায় ডুবে আছে। বুনের জেলার বাসিন্দা আজিজুল্লাহ ভয়াবহ মুহূর্তটির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আমি মনে করেছিলাম কেয়ামত নেমে এসেছে। প্রচণ্ড শব্দের পর পাহাড় কেঁপে উঠতে দেখলাম, মনে হচ্ছিল মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে।”
জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ) জানিয়েছে, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ১১ জন এবং গিলগিট-বালতিস্তানে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী নিয়ে যাওয়ার সময় একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই পাইলটসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সংস্থার কর্মকর্তা সৈয়দ মোহাম্মদ তায়েব শাহ জানান, এ বছর মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আগেই শুরু হয়েছে এবং অন্তত ১৫ দিন এর তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বর্ষা মৌসুমের প্রবল বৃষ্টিকে কর্তৃপক্ষ “অস্বাভাবিক” বলে আখ্যা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৯০০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ দেশগুলোর একটি। ঘন ঘন বন্যা, খরা ও চরম আবহাওয়ার শিকার হচ্ছে দেশটির জনগণ। মাত্র তিন বছর আগে, ২০২২ সালের মৌসুমি বন্যায় পাকিস্তানের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল। সেই দুর্যোগে প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতি আবারও প্রমাণ করছে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে পাকিস্তান মারাত্মক বিপদের মুখে। পাহাড়ি এলাকায় মানুষজন একদিকে প্রকৃতির ভয়াবহ আঘাত সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে জীবনের অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে থাকলে মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞ আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, বাংলাদেশে কোনো ধর্ম, জাতি বা গোত্রের ভেদাভেদ থাকবে না। তার ভাষ্যে, “এই দেশ সবার, আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক, এবং একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করব।”
এই বক্তব্য শুধু একটি উৎসব উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক-সামাজিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আগস্ট মাসে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রা সবসময়ই দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হয়ে এসেছে। তবে এ বছর সেনাপ্রধানের উপস্থিতি ও বক্তব্য একটি ভিন্ন মাত্রা তৈরি করেছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, অস্থিরতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো জনমনে ঘুরছে, সেসবের প্রেক্ষাপটে তার বার্তা কার্যত রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। শত শত বছর ধরে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি, বাঙালি ও বিভিন্ন উপজাতি জনগোষ্ঠী এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। আমাদের সবার সমান অধিকার রয়েছে এবং সেইভাবেই আমরা ভবিষ্যতের দিকে এগোতে চাই।” তার এই বক্তব্য একদিকে ঐতিহাসিক বহুত্ববাদী চর্চার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থায় সবার নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের প্রতি আস্থাও জোরদার করে।
শুধু প্রতীকী বার্তাতেই থেমে থাকেননি তিনি। সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের অঙ্গীকার হবে শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা। সারা বাংলাদেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আমরা জনগণের পাশে থাকব এবং এক হয়ে কাজ করে যাব।” এ বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে সামরিক নেতৃত্ব বর্তমানে শুধু প্রতিরক্ষা নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে দেখছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, “আপনারা নিশ্চিন্তে এই দেশে বসবাস করবেন এবং ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করবেন। আমরা একসঙ্গে এই আনন্দ ভাগাভাগি করব।” ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস।
অনুষ্ঠানে অন্য বাহিনী প্রধানরাও বক্তব্য দেন। বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান বলেন, শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রেরণা যোগায়, স্বাধীনতা রক্ষায় সকলের দায়িত্ব রয়েছে। নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, পারস্পরিক সহনশীলতা দেশকে শক্তিশালী করে, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুক।
শেষে তিন বাহিনী প্রধান প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন। রাজধানীর পলাশী মোড় থেকে শুরু হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হয়।
জন্মাষ্টমীর এ আয়োজন তাই শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং বহুত্ববাদী বাংলাদেশে সামরিক নেতৃত্বের অবস্থান ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রীতির অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করার এক প্রকার প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে রইল।
‘এটি এক বরকতমন্ডিত কিতাব, যা আমরা তোমার প্রতি নাযিল করেছি। যাতে লোকেরা এর আয়াত সমূহ অনুধাবন করে এবং জ্ঞানীরা উপদেশ গ্রহণ করে’ (ছোয়াদ-মাক্কী ৩৮/২৯)।
কুরআনের অনেক আয়াত রয়েছে যা বাহ্যিকভাবে পরস্পর বিরোধী। কিন্তু তার মর্ম অনুধাবন করলে উক্ত বাহ্যিক বিরোধ সমন্বয় করা সম্ভব। ফলে আর বিরোধ থাকে না।
উদাহরণ স্বরূপ :
(১) আল্লাহ বলেন, وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللهِ حَدِيثًا- ‘আর আল্লাহর চাইতে অধিক সত্যবাদী আর কে আছে? (নিসা-মাদানী ৪/৮৭)। অন্যত্র তিনি বলেন, وَمَنْ أَصْدَقُ مِنَ اللهِ قِيلاً- ‘আর আল্লাহর চাইতে কথায় অধিক সত্যবাদী আর কে আছে? (নিসা-মাদানী ৪/১২২)।
দু’টি আয়াতের মর্ম একই। অতএব দ্বিতীয়টি প্রথমটির নাসেখ বা হুকুম রহিতকারী। কেননা আল্লাহ বলেছেন,مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنْسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِنْهَا أَوْ مِثْلِهَا ‘আমরা কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা তা ভুলিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তদনুরূপ আয়াত আনয়ন করি’ (বাক্বারাহ-মাদানী ২/১০৬)। অতএব দুই আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ রইল না।
(২) আল্লাহ কুরআন সম্পর্কে বলেন, هُدًى لِلْمُتَّقِينَ- ‘আল্লাহভীরুদের জন্য পথ প্রদর্শক’ (বাক্বারাহ-মাদানী ২/২)। অন্যত্র তিনি বলেন,شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ، ‘রামাযান হ’ল সেই মাস, যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে। যা মানুষের জন্য পথ প্রদর্শক’ (বাক্বারাহ-মাদানী ২/১৮৫)। ১ম আয়াতে ‘মুত্তাক্বীদের জন্য’ খাছ করা হয়েছে। পরের আয়াতে সাধারণভাবে ‘সকল মানুষকে’ বুঝানো হয়েছে। উভয় আয়াতের সমন্বয় এই যে, প্রথমটি হ’ল هداية التوفيق والانتفاع ‘তাওফীক ও উপকার লাভের’ হেদায়াত। দ্বিতীয়টি হ’ল هداية التبيين والإرشاد ‘ব্যাখ্যা ও সুপথ প্রদর্শনের’ হেদায়াত।
(৩) একই দৃষ্টান্ত রয়েছে নিম্নের দু’টি আয়াতে। যেমন আল্লাহ বলেন,إِنَّكَ لَا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ، ‘নিশ্চয়ই তুমি হেদায়াত করতে পারো না যাকে তুমি ভালবাস। বরং আল্লাহই যাকে চান তাকে হেদায়াত করে থাকেন’ (ক্বাছাছ-মাক্কী ২৮/৫৬)। অন্যত্র তিনি বলেন,وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ ‘আর নিশ্চয়ই তুমি প্রদর্শন করে থাক সরল পথ’ (শূরা-মাক্কী ৪২/৫২)। উভয় আয়াতের সমন্বয় এই যে, প্রথমটি হ’ল هداية التوفيق والانتفاع ‘তাওফীক ও উপকার লাভের’ হেদায়াত। দ্বিতীয়টি হ’লهداية التبيين والإرشاد ‘ব্যাখ্যা ও সুপথ প্রদর্শনের’ হেদায়াত।
(৪) আল্লাহ বলেন,شَهِدَ اللهُ أَنَّهُ لآ إِلٰهَ إِلاَّ هُوَ وَالْمَلآئِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ، ‘আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আর ফেরেশতামন্ডলী ও ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও’ (আলে ইমরান-মাদানী ৩/১৮)। অন্যত্র তিনি বলেন, إِنَّ هَذَا لَهُوَ الْقَصَصُ الْحَقُّ وَمَا مِنْ إِلٰهٍ إِلاَّ اللهُ، ‘নিশ্চয় এটিই হ’ল যথার্থ বিবরণ। বস্ত্তত আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই’ (আলে ইমরান-মাদানী ৩/৬২)। পক্ষান্তরে আল্লাহ বলেন, فَلاَ تَدْعُ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ، ‘অতএব তুমি আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে আহবান করোনা’ (শো‘আরা-মাক্কী ২৬/২১৩)। অন্যত্র তিনি বলেন,فَمَا أَغْنَتْ عَنْهُمْ اٰلِهَتُهُمُ الَّتِي يَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللهِ مِنْ شَيْءٍ، ‘অথচ যখন তোমার পালনকর্তার নির্দেশ এসে গেল, তখন তাদের উপাস্যরা তাদের কোন কাজে আসেনি যাদেরকে তারা ডাকত আল্লাহকে ছেড়ে’ (হূদ-মাক্কী ১১/১০১)।
প্রথম দু’টি আয়াতে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উলূহিয়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরের দু’টি আয়াতে অন্যের জন্য উলূহিয়াত সিদ্ধ করা হয়েছে। উভয়ের সমন্বয় এই যে, প্রথম দু’টিতে উলূহিয়াতকে আল্লাহর সত্য উলূহিয়াতের সাথে খাছ করা হয়েছে। শেষের দু’টিতে মিথ্যা উলূহিয়াত সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,ذَلِكَ بِأَنَّ اللهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ، ‘এটা একারণেও যে, কেবলমাত্র আল্লাহই সত্য এবং তিনি ব্যতীত যাকে তারা ডাকে সবই মিথ্যা’ (হজ্জ-মাদানী ২২/৬২)।
(৫) আল্লাহ বলেন, قُلْ إِنَّ اللهَ لاَ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ، ‘তুমি বল, আল্লাহ কখনো অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেন না’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/২৮)। অন্যত্র তিনি বলেন,وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا فَفَسَقُوا فِيهَا، ‘যখন আমরা কোন জনপদকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করি, তখন আমরা সেখানকার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নির্দেশ দেই। তখন তারা সেখানে পাপাচারে মেতে ওঠে’ (ইসরা-মাক্কী ১৭/১৬)।
প্রথমোক্ত আয়াতে আল্লাহ ফাহেশা কাজে নির্দেশ দেননা বলা হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় আয়াতের প্রকাশ্য অর্থে বুঝা যায় যে, আল্লাহ ফাসেকী কাজের নির্দেশ দেন। উভয় আয়াতের সমন্বয় এই যে, প্রথম আয়াতে ‘শারঈ বিধান’ প্রদত্ত হয়েছে। যেমন তিনি বলেছেন,إِنَّ اللهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ، ‘নিশ্চয় আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অন্যায় ও অবাধ্যতা হ’তে নিষেধ করেন’ (নাহল-মাক্কী ১৬/৯০)। দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহর الأمر الكوني বা ‘সার্বজনীন বিধান’ বর্ণিত হয়েছে। যেমন তিনি বলেন,إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئًا أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ- ‘যখন তিনি কিছু করতে ইচ্ছা করেন তখন তাকে কেবল বলেন, হও। অতঃপর তা হয়ে যায়’ (ইয়াসীন-মাক্কী ৩৬/৮২)। অতএব উভয় আয়াতের মধ্যে কোন বিরোধ নেই।
(৬) আল্লাহ বলেন,وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ- ‘যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী বিচার বা শাসন করেনা, তারা কাফের’ (মায়েদাহ ৫/৪৪)। এর পরে ৪৫ আয়াতে রয়েছে ‘তারা যালেম’ এবং ৪৭ আয়াতে রয়েছে, ‘তারা ফাসেক’। একই অপরাধের তিন রকম পরিণতি : কাফের, যালেম ও ফাসেক। উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধানকে অস্বীকার করল সে কাফের। আর যে ব্যক্তি তা স্বীকার করল, কিন্তু সে অনুযায়ী বিচার করল না সে যালেম ও ফাসেক। সে ইসলামের গন্ডী থেকে বহির্ভূত নয়’।
(৭) আল্লাহ বলেন, قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلاَّ تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ، ‘আল্লাহ বললেন, আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম, তখন কোন্ বস্ত্ত তোমাকে বাধা দিল যে তুমি সিজদা করলে না?’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১২)। অথচ অন্যত্র এসেছে,مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ ‘আমি যাকে আমার দু’হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে কোন বস্ত্ত তোমাকে বাধা দিল? (ছোয়াদ-মাক্কী ৩৮/৭৫)। প্রথম আয়াতে لاَ শব্দটি ‘অতিরিক্ত’ হিসাবে এসেছে। যেমনটি এসেছে সূরা বালাদে।لاَ أُقْسِمُ بِهَذَا الْبَلَدِ ‘আমি শপথ করছি এই নগরীর’ (বালাদ-মাক্কী ৯০/১)। অর্থ أنا أقسم بهذا البلد ‘আমি এই নগরীর শপথ করে বলছি’। বাক্যের শুরুতে لاَ ‘না’ বোধক নয়। বরং ‘অতিরিক্ত’ হিসাবে আনা হয়েছে তম্বীহ ও তাকীদের জন্য এবং প্রতিপক্ষের ভ্রান্ত ধারণা জোরালোভাবে খন্ডন করার জন্য।
(৮) আল্লাহ বলেন, فَيَوْمَئِذٍ لَا يُسْأَلُ عَنْ ذَنْبِهِ إِنْسٌ وَلَا جَانٌّ- ‘সেদিন মানুষ ও জিন তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে না’ (রহমান-মাক্কী ৫৫/৩৯)। অন্যত্র বলা হয়েছে,وَإِذَا الْمَوْءُودَةُ سُئِلَتْ- ‘যেদিন জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তান জিজ্ঞাসিত হবে’ (তাকভীর-মাক্কী ৮১/৮)। এর অর্থالإستخبار والإستعلام ‘খবর নেওয়া’ এবং ‘কারণ কি সে বিষয়ে জ্ঞাত হওয়া’ (শানক্বীত্বী)। নিরপরাধ মযলূম মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করার অর্থ হ’ল যালেম পিতা-মাতাকে তার সামনে ধিক্কার দেওয়া। অথবা হত্যাকারীকে মেয়েটির সামনে ডেকে এনে ধমক দিয়ে বলা হবে, তুমি বলো, কেন মেয়েটি নিহত হ’ল? (ক্বাসেমী)।
(৯) আল্লাহ বলেন, قَالَ أَنْظِرْنِي إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ- قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنْظَرِينَ ‘সে বলল, আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবকাশ দিন’। ‘আল্লাহ বললেন, তোমাকে অবকাশ দেওয়া হ’ল’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৪-১৫)। অন্যত্র বলা হয়েছে,إِلَى يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ- ‘অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত’ (হিজর-মাক্কী ১৫/৩৮)। অধিকাংশ বিদ্বানগণের মতে এর অর্থ হ’ল ক্বিয়ামতের দিন প্রথম শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া (শানক্বীত্বী)।
(১০) আল্লাহ বলেন,وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا، ‘যখন তারা কোন অশ্লীল কর্ম করে তখন বলে, আমরা আমাদের পূর্ব পুরুষদের এরূপ করতে দেখেছি’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/২৮)। কাফেররা তাদের অশ্লীল কর্মের পক্ষে এভাবে দলীল দিত। এটি ছিল তাদের তাক্বলীদী গোঁড়ামী বা অন্ধ অনুসরণ মাত্র। যেমনটি আল্লাহ অন্যত্র বলেন,إِنَّهُمْ أَلْفَوْا آبَاءَهُمْ ضَالِّينَ- فَهُمْ عَلَى آثَارِهِمْ يُهْرَعُونَ- ‘তারা তাদের বাপ-দাদাদের পেয়েছিল পথভ্রষ্ট রূপে’। ‘ফলে তারা তাদের পদাংক অনুসরণের প্রতি দ্রুত ধাবিত হয়েছিল’ (ছাফফাত-মাক্কী ৩৭/৬৯-৭০)।
(১১) আল্লাহ বলেন,أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لاَ يُكَلِّمُهُمْ وَلاَ يَهْدِيهِمْ سَبِيلاً اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ- ‘অথচ তারা কি দেখে না যে সে তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদের কোন পথও দেখায় না? তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। বস্ত্তত তারা ছিল সীমালংঘনকারী’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৪৮)। অত্র আয়াতে মূসা (আঃ)-এর কওমের গোবৎস পূজার বিরুদ্ধে ধিক্কার দেওয়া হয়েছে। যেমন আল্লাহ পরের আয়াতেই বলেছেন,وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِنْ لَمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ- ‘আর যখন তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে লজ্জিত হ’ল এবং দেখল যে, তারা নিশ্চিতভাবেই পথভ্রষ্ট হয়েছে, তখন তারা বলল, আমাদের প্রতিপালক যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন এবং আমাদের ক্ষমা না করেন, তাহ’লে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৪৯)। অন্য আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, أَلَمْ يَعِدْكُمْ رَبُّكُمْ وَعْدًا حَسَنًا أَفَطَالَ عَلَيْكُمُ الْعَهْدُ أَمْ أَرَدْتُمْ أَنْ يَحِلَّ عَلَيْكُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّكُمْ فَأَخْلَفْتُمْ مَوْعِدِي- قَالُوا مَا أَخْلَفْنَا مَوْعِدَكَ بِمَلْكِنَا، ‘তোমাদের প্রতিপালক কি তোমাদেরকে এক উত্তম প্রতিশ্রুতি দেননি? তবে কি প্রতিশ্রুতির সময়কাল তোমাদের নিকট দীর্ঘ হয়ে গেছে? না কি তোমরা চেয়েছ যে, তোমাদের উপর তোমাদের প্রতিপালকের ক্রোধ অবধারিত হয়ে যাক। যে কারণে তোমরা আমার সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে? (৮৫)। ‘তারা বলল, আমরা আপনার নিকট কৃত অঙ্গীকার স্বেচ্ছায় ভঙ্গ করিনি’ (ত্বোয়াহা-মাক্কী ২০/৮৫-৮৬)।
তাদের লজ্জিত হওয়ার পর গোবৎস পূজার শাস্তি হিসাবে আল্লাহ নাযিল করেন। যেমন তিনি বলেন,وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَاقَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنْفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُوا إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ عِنْدَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ- ‘আর (স্মরণ কর) যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! নিশ্চয়ই তোমরা গোবৎস পূজার মাধ্যমে নিজেদের উপর যুলুম করেছ। অতএব এখন তোমরা তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট তওবা কর এবং (শাস্তি স্বরূপ) পরস্পরকে হত্যা কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের সৃষ্টিকর্তার নিকট। অতঃপর তিনি তোমাদের তওবা কবুল করলেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বাধিক তওবা কবুলকারী ও দয়াবান’ (বাক্বারাহ-মাদানী ২/৫৪)।
কেবল মূসা (আঃ)-এর কওমের গোবৎস পূজারীরা নয়, বরং প্রাচীন ও বর্তমান যুগের সকল মূর্তিপূজারী, কবরপূজারী, ভাষ্কর্যপূজারী, ছবি ও প্রতিকৃতি পূজারী সকলের অবস্থা একই। বর্তমান যুগে সভ্যতার সর্বোচ্চ স্তরে এসেও নামধারী জ্ঞানী মানুষদের ধিক্কার দিয়ে কবি ‘আমর বিন মা‘দীকারিব (হি. পূ ৭৫-২১ হি.) বলেন,
لقد أسمعتَ لو ناديتَ حَيًّا + ولكن لا حياة لمن تنادي
ولو نارا نفختَ بها أضاءتْ+ ولكن أنتَ تنفخُ في الرماد
‘যদি তুমি জীবিত ব্যক্তিকে ডাকতে, তাহ’লে তুমি তাকে শুনাতে পারতে + কিন্তু যাকে তুমি ডাকছ তার কোন প্রাণ নেই’। ‘যদি তুমি আগুনে ফুঁক দিতে তাহ’লে সে আলো দিত + কিন্তু তুমি ফুঁক দিচ্ছ ছাইয়ের মধ্যে’।
(১২) আল্লাহ বলেন, فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِمْ بِعِلْمٍ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ- ‘অতঃপর আমরা তাদের নিকট সবকিছু বর্ণনা করব পূর্ণজ্ঞান সহকারে। আর আমরা তো তাদের থেকে অনুপস্থিত ছিলাম না’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৪৯)। অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন,وَمَا تَكُونُ فِي شَأْنٍ وَمَا تَتْلُو مِنْهُ مِنْ قُرْآنٍ وَلَا تَعْمَلُونَ مِنْ عَمَلٍ إِلَّا كُنَّا عَلَيْكُمْ شُهُودًا إِذْ تُفِيضُونَ فِيهِ وَمَا يَعْزُبُ عَنْ رَبِّكَ مِنْ مِثْقَالِ ذَرَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَلَا أَصْغَرَ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرَ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ- ‘আর যে অবস্থায় তুমি থাক না কেন, কিংবা যে প্রেক্ষিতে তুমি কুরআনের কোন অংশ পাঠ কর না কেন এবং যে কাজই তোমরা কর না কেন, আমরা সেখানে হাযির থাকি যখন তোমরা সে কাজে রত হও। বস্ত্তত নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের এক কণা পরিমাণও তোমার প্রতিপালকের অগোচরে নেই। তার চাইতে ছোট বা বড় সকল বস্ত্তই স্পষ্ট কিতাবে (লওহে মাহফূযে) লিপিবদ্ধ রয়েছে’ (ইউনুস-মাক্কী ১০/৬১)। অত্র আয়াত এবং অন্যান্য বহু আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি বান্দার গোপন ও প্রকাশ্য ছোট ও বড় সককিছুর পূর্ণ খবর রাখেন। তার জানার বাইরে বান্দা কিছুই করতে পারেন না। তিনি সৃষ্টি জগতের সব কিছুর ব্যাপারে সদা প্রহরী। কেবল লওহে মাহফূযে লিপিবদ্ধ রয়েছে তা নয়, বরং সর্বদা যখনই বান্দা কোন কাজ করে, তখনই আল্লাহ সেখানে হাযির থাকেন এবং তা জানতে পারেন। অত্র আয়াতে আল্লাহ তার ‘ইলম’ গুণকে নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন।
মু‘তাযিলা সম্প্রদায়
অত্র আয়াতে মু‘তাযিলাদের ভ্রান্ত আক্বীদার প্রতিবাদ রয়েছে। যারা আল্লাহর গুণাবলীকে অস্বীকার করেন। একইভাবে তারা আল্লাহর ক্বাদের, মুরীদ, সামী‘, বাছীর, মুতাকাল্লিম সকলগুণকে অস্বীকার করেন। অথচ এগুলি অত্র আয়াতে এবং অন্যান্য আয়াতে তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন।
(১৩) আল্লাহ বলেন,وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ قَلِيلاً مَا تَشْكُرُونَ- ‘আর আমরা তোমাদেরকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছি এবং তোমাদের জন্য সেখানে জীবিকা সমূহ প্রদান করেছি। কিন্তু তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে থাক’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১০)। অত্র আয়াতে জীবিকার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ব্যাখ্যা এসেছে অন্যান্য আয়াতে। যেমন আল্লাহ বলেন,فَلْيَنْظُرِ الْإِنْسَانُ إِلَى طَعَامِهِ- أَنَّا صَبَبْنَا الْمَاءَ صَبًّا- ثُمَّ شَقَقْنَا الْأَرْضَ شَقًّا- فَأَنْبَتْنَا فِيهَا حَبًّا- وَعِنَبًا وَقَضْبًا- وَزَيْتُونًا وَنَخْلًا- وَحَدَائِقَ غُلْبًا- وَفَاكِهَةً وَأَبًّا- مَتَاعًا لَكُمْ وَلِأَنْعَامِكُمْ- ‘অতঃপর মানুষ লক্ষ্য করুক তার খাদ্যের দিকে’ (২৪)। ‘আমরাই প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করি’ (২৫)। ‘অতঃপর ভূমিকে উত্তমভাবে বিদীর্ণ করি’ (২৬)। ‘অতঃপর তাতে উৎপন্ন করি খাদ্য-শস্য’ (২৭)। ‘আঙ্গুর ও শাক-সবজি’ (২৮)। ‘যায়তূন ও খর্জুর’ (২৯)। ‘ঘন পল্লবিত উদ্যানরাজি’ (৩১)। ‘এবং ফল-মূল ও ঘাস-পাতা’ (৩১)। ‘তোমাদের ও তোমাদের গবাদিপশুর ভোগ্যবস্ত্ত হিসাবে’ (‘আবাসা-মাক্কী ৮০/২৪-৩২)। অন্য আয়াতে এসেছে,وَالْأَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ وَمَنَافِعُ وَمِنْهَا تَأْكُلُونَ- ‘তিনি গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন। তাতে তোমাদের জন্য শীত নিবারণের উপকরণ ও অন্যান্য কল্যাণ রয়েছে এবং সেসব থেকে তোমরা ভক্ষণ করে থাকো’ (নাহল-মাক্কী ১৬/৫)। রয়েছে মৌমাছি থেকে মানুষের জন্য খাদ্য সরবরাহের চমৎকার বিবরণ। যেমন আল্লাহ বলেন,وَأَوْحَى رَبُّكَ إِلَى النَّحْلِ أَنِ اتَّخِذِي مِنَ الْجِبَالِ بُيُوتًا وَمِنَ الشَّجَرِ وَمِمَّا يَعْرِشُونَ- ثُمَّ كُلِي مِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ فَاسْلُكِي سُبُلَ رَبِّكِ ذُلُلاً يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاءٌ لِلنَّاسِ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ- ‘আর তোমার প্রতিপালক মৌমাছিকে প্রত্যাদেশ করলেন যে, তুমি তোমার গৃহ নির্মাণ কর পাহাড়ে, গাছে ও যেখানে মানুষ মাচান নির্মাণ করে’ (৬৮)। ‘অতঃপর তুমি সর্বপ্রকার ফল-মূল হ’তে ভক্ষণ কর। এরপর তোমার প্রভুর দেখানো পথ সমূহে প্রবেশ কর বিনীত ভাবে। তার পেট থেকে নির্গত হয় নানা রংয়ের পানীয়। যার মধ্যে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য। নিশ্চয়ই এর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য’ (নাহল-মাক্কী ১৬/৬৮-৬৯)।
(১৪) ইবলীসের জওয়াব উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন,قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ- ‘সে বলল, আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১২)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন,وَخَلَقَ الْجَانَّ مِنْ مَارِجٍ مِنْ نَارٍ- ‘এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ হ’তে’ (রহমান-মাক্কী ৫৫/১৫)। ‘অগ্নিস্ফুলিঙ্গ’ কথাটি কেবল ‘আগুন’ হ’তে বিশেষ বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। অতএব দু’টি পৃথক। যা থেকে জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
(১৫) আল্লাহ বলেন,قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَنْ تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ- ‘আল্লাহ বললেন, এখান থেকে তুমি নেমে যাও। এখানে তুমি অহংকার করবে, তা হবে না। অতএব তুমি বেরিয়ে যাও। তুমি লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৩)। الصغار বা ‘লাঞ্ছনা’ কথাটিالذل والهوان বা ‘দীনতা’ ও ‘হীনতা’ হ’তে কঠিন। এর দ্বারা ‘নেমে যাও’ আদেশটির কঠোরতা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে এসেছে,قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَدْحُورًا لَمَنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكُمْ أَجْمَعِينَ- ‘আল্লাহ বললেন, তুমি এখান থেকে বেরিয়ে যাও ধিকৃত ও বিতাড়িত অবস্থায়। তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলকে দিয়ে জাহান্নাম পূর্ণ করব’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৮)। অত্র আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অহংকারী ব্যক্তি তার কাম্যবস্ত্ত বড়ত্ব ও অহমিকা কখনই অর্জন করতে পারবে না। বরং সে তার বিপরীতটিই পাবে। যেমন আল্লাহ বলেছেন,أَلَيْسَ فِي جَهَنَّمَ مَثْوًى لِلْمُتَكَبِّرِينَ- ‘বস্ত্তত দাম্ভিকদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়? (যুমার-মাক্কী ৩৯/৬০)।
(১৬) আল্লাহ বলেন,يَابَنِي آدَمَ لاَ يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُمْ مِنَ الْجَنَّةِ، ‘হে আদম সন্তান! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে। যেমন সে তোমাদের আদি পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/২৭)। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, فَقُلْنَا يَاآدَمُ إِنَّ هَذَا عَدُوٌّ لَكَ وَلِزَوْجِكَ فَلَا يُخْرِجَنَّكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ فَتَشْقَى- ‘অতঃপর আমরা বললাম, হে আদম! এটি তোমার ও তোমার স্ত্রীর শত্রু। অতএব সে যেন কিছুতেই তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের না করে দেয়। তাহ’লে তুমি কষ্টে পতিত হবে’ (ত্বোয়াহা-মাক্কী ২০/১১৭)। প্রথম আয়াতে আদম সন্তান এবং পরের আয়াতে আদম বলে একই বিষয়ে বান্দাকে সাবধান করা হয়েছে। আর সেটি হ’ল শয়তানের ধোঁকা থেকে বেঁচে থাকা। যেটাতে আদম ব্যর্থ হয়েছে। তাকে আগেই সতর্ক করা সত্ত্বে সে সতর্ক হ’তে পারেনি। বান্দা যেন শয়তান থেকে সাবধান হয়।
(১৭) আল্লাহ বলেন,وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي، ‘এবং তার ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টানতে লাগল। তখন ভাই বলল, হে আমার সহোদর! সম্প্রদায়ের লোকেরা আমাকে দুর্বল ভেবেছিল’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৫০)। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াতে এসেছে। যেমন আল্লাহ বলেন,وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَارُونُ مِنْ قَبْلُ يَاقَوْمِ إِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهِ وَإِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمَنُ فَاتَّبِعُونِي وَأَطِيعُوا أَمْرِي- قَالُوا لَنْ نَبْرَحَ عَلَيْهِ عَاكِفِينَ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَيْنَا مُوسَى- ‘আর অবশ্যই হারূণ তাদের আগেই বলেছিল, হে আমার সম্প্রদায়! এর দ্বারা তোমরা একটা পরীক্ষায় পতিত হয়েছ। তোমাদের প্রতিপালক দয়াময়। অতএব তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মেনে চল’ (৯০)। তারা বলল, মূসা আমাদের নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা এর পূজাতেই লেগে থাকব’ (ত্বোয়াহা-মাক্কী ২০/৯০-৯১)। অত্র আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ বনু ইস্রাঈলের পথভ্রষ্টতার ব্যাপারে নবী হারূণ (আঃ)-এর নিষ্পাপত্ব ও দায়মুক্তি বর্ণনা করেছেন।
(১৮) আল্লাহ বলেন,قُلْ يَاأَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا، ‘তুমি বল, হে মানবজাতি! আমি তোমাদের সকলের প্রতি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল’ (আ‘রাফ-মাক্কী ৭/১৫৮)। এর দ্বারা শেষনবী (ছাঃ)-এর রিসালাতকে তৎকালীন আরবসহ আহলে কিতাবদের জন্য শামিল করা হয়েছে। যেমন অন্য আয়াতে তার ব্যাখ্যা এসেছে,وَقُلْ لِلَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ وَالْأُمِّيِّينَ أَأَسْلَمْتُمْ فَإِنْ أَسْلَمُوا فَقَدِ اهْتَدَوْا وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْكَ الْبَلَاغُ، ‘আর তুমি আহলে কিতাব ও (মুশরিক) উম্মীদের বল, তোমরা কি ইসলাম কবুল করলে? যদি করে, তবে তারা সরল পথ প্রাপ্ত হ’ল। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহ’লে তোমার দায়িত্ব কেবল পৌঁছে দেওয়া’ (আলে ইমরান-মাদানী ৩/২০)। অন্য আয়াতে তার রিসালাত পৌঁছার সাথে সাথে কুরআন পৌঁছার কথা বলা হয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন,وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ، ‘আর আমার নিকট অহি করা হয়েছে এই কুরআন, যাতে এর দ্বারা আমি সতর্ক করি তোমাদের ও যাদের নিকট এটি পৌঁছবে’ (আন‘আম-মাক্কী ৬/১৯)। এর দ্বারা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে যে কোন রং, বর্ণ, ভাষা ও অঞ্চলের মানুষের জন্য কুরআন একমাত্র এলাহী গ্রন্থ এবং শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) একমাত্র রাসূল হিসাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত হয়েছেন।
(১৯) আল্লাহ বলেন,وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً- ‘আর আমরা রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেই না’ (বনু ইস্রাঈল-মাক্কী ১৭/১৫)। অত্র আয়াতে বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক জাতির নিকট নবী পৌঁছেছেন এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে সতর্ক করেছেন। অথচ আল্লাহ অন্যত্র বলেছেন, وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ أَكَابِرَ مُجْرِمِيهَا لِيَمْكُرُوا فِيهَا وَمَا يَمْكُرُونَ إِلَّا بِأَنْفُسِهِمْ وَمَا يَشْعُرُونَ- ‘আর এভাবেই আমরা প্রত্যেক জনপদের শীর্ষ পাপীদের অনুমতি দেই যাতে তারা সেখানে চক্রান্ত করে। অথচ এর দ্বারা তারা কেবল নিজেদেরকেই প্রতারিত করে। কিন্তু তারা তা বুঝতে পারে না’ (আন‘আম-মাক্কী ৬/১২৩)। একদিকে আল্লাহ রাসূল পাঠাচ্ছেন, অন্যদিকে সেখানকার শীর্ষ পাপীদের পাপ কাজের অনুমতি দিচ্ছেন। এর অর্থ অনুমতি নয়, বরং পাপীদের পরীক্ষা করা। এজন্যেই বলা হয়ে থাকে, لِكُلِّ فِرْعَوْنَ مُوسَى ‘প্রত্যেক ফেরাউনের জন্য মূসা রয়েছেন’।[1] যারা ফেরাউনদের উপদেশ দেন। যাতে তারা আল্লাহর পথে ফিরে আসে। যেমন আল্লাহ বলেন,وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنَ الْعَذَابِ الْأَدْنَى دُونَ الْعَذَابِ الْأَكْبَرِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ- ‘আর অবশ্যই আমরা তাদেরকে (আখেরাতে) কঠিন শাস্তির পূর্বে (দুনিয়াতে) লঘু শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো। যাতে তারা (আল্লাহর পথে) ফিরে আসে’ (সাজদাহ-মাক্কী ৩২/২১)।
শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) এসেছিলেন বিশ্বনবী হিসাবে ক্বিয়ামত অবধি বিশ্বের সকল মানুষের নিকটে। এমতাবস্থায় যদি কেউ তার নবুঅত ও রিসালাতকে অস্বীকার করে এবং ইসলামকে অমান্য করে, সে জাহান্নামী হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لاَ يَسْمَعُ بِى أَحَدٌ مِّنْ هٰذِهِ الأُمَّةِ يَهُودِىٌّ وَلاَ نَصْرَانِىٌّ ثُمَّ يَمُوتُ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِالَّذِى أُرْسِلْتُ بِهِ إِلاَّ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ- ‘যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর কসম করে বলছি, ইহূদী হৌক বা নাছারা হৌক এই উম্মতের যে কেউ আমার আগমনের খবর শুনেছে, অতঃপর মৃত্যুবরণ করেছে, অথচ আমি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি, তার উপরে ঈমান আনেনি, সে অবশ্যই জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (মুসলিম হা/১৫৩; মিশকাত হা/১০)। অতএব কুরআনের উপরোক্ত পরস্পর বিরোধী আয়াত সমূহ আদৌ পরস্পর বিরোধী নয়। বরং পরস্পরের ব্যাখ্যা ও পরিপূরক।
আল্লাহ আমাদেরকে সার্বিক জীবনে তাঁর পূর্ণ অনুসারী হওয়ার তওফীক দিন।-আমীন!
The Ministry of Commerce has set an ambitious $63.5 billion export target for fiscal year 2025–26 (FY26). On paper, it represents confidence and hope for Bangladesh’s export-driven economy. But ask the country’s exporters, and they will tell you: our real fight is not with the world, but with ourselves.
Bangladesh has the demand, the cost competitiveness, and even a rare tariff advantage in the United States market. Yet the question remains: can the country overcome the domestic bottlenecks of energy crisis, banking instability, customs hassles, and high borrowing costs to make this dream a reality?
Breaking Down the Target
The $63.5 billion target is divided into:
Goods exports: $55 billion (13.4% higher than last year)
Services exports: $8.5 billion (18.7% growth)
As always, the readymade garments (RMG) sector will carry the bulk of the burden. Out of the total goods export target, $44.49 billion must come from RMG alone:
Woven garments: $20.79 billion (14.3% growth)
Knitwear: $23.70 billion (12% growth)
Other sectors, leather, jute, agriculture, and plastics, have also been given growth targets. But their track record suggests they face deeper structural problems that mere numbers cannot solve.
When asked about challenges, exporters do not start with global competition. They start at home.
Gas shortages and irregular electricity supply are crippling factory production. Energy-intensive industries like textiles and leather have already lost production hours, raising costs and hurting competitiveness.
The banking sector crisis is another pressing issue. With liquidity shortages, long delays in opening letters of credit (LCs), and rising interest rates under contractionary monetary policy, exporters say they are being strangled from the inside.
“There is demand in the global market. We are competitive. But how can we meet increased orders when gas is irregular, factories face sudden outages, and LC processing is stuck in a broken banking system?” Mohammad Hatem, President, BKMEA
Customs and port-related hassles are equally damaging. Exporters frequently allege corruption and over-monitoring at ports, which they say act less like facilitation and more like obstruction.
For the first time in years, Bangladesh enjoys a tariff edge in the United States, its single largest export destination. With average tariffs on Bangladeshi apparel at 36.5%, lower than many competitors, the opportunity is huge.
But it is not without complications.
“Yes, we have a window of opportunity. But buyers are negotiating harder. Sometimes they want us to share the tariff benefits.” AK Azad, Chairman, Ha-Meem Group
Some exporters caution against overdependence on the US. Trade policies can change with a new administration, they warn, and benefits can disappear overnight.
Leather & Leather Goods
Target: $1.25 billion (9.2% growth)
Reality: The sector has been stuck between $1 and $1.2 billion for two decades.
Challenges: Non-compliance at the Savar Tannery Estate, poor infrastructure, and corruption at customs.
“I can meet my footwear export target if customs simply act as facilitators, not destroyers.” Nasir Khan, MD, Jenys Shoe
Jute
Target: $900 million (9.7% growth)
Concerns: Non-tariff barriers from India, lack of R&D investment, and slow lab-testing improvements.
Agriculture
Target: $1.21 billion (22.4% growth)
Worry: Exports have declined for three consecutive years. Growth depends heavily on whether India reopens land ports.
“If India reopens land ports, there is a possibility. Otherwise, it will be tough.” An agro-exporter
In response to exporters’ concerns, Commerce Secretary Mahbubur Rahman has announced a joint meeting next week with energy and banking sector stakeholders, as well as sector-specific consultations with exporters from 22 industries.
Many welcome this step, but skepticism remains.
“Is the government setting targets to listen to us, or just to announce big numbers?” Anwar-ul Alam Chowdhury Parvez, President, Bangladesh Chamber of Industries
Optimism is not absent. Exporters know the global market is eager, especially as China gradually retreats from low-end apparel. The appetite is there. The capacity is also ready. What is missing is an enabling domestic environment.
“There’s nothing wrong with aiming high. But if we fix gas, stabilize banking, and improve ports, you’ll see—we won’t just hit the target, we’ll beat it.” Mohammad Hatem, BKMEA
The government’s number is bold. But for Bangladesh, hitting $63.5 billion will depend less on tariff edges or foreign demand and more on whether it can finally solve the old, familiar problems at home.
Bournemouth captain Adam Smith expressed shock and anger after teammate Antoine Semenyo reported being racially abused by a supporter during the Cherries’ 4-2 defeat to Liverpool in the opening fixture of the Premier League season.
The match was briefly halted around the 30-minute mark when Semenyo informed referee Anthony Taylor about the incident. Both managers were subsequently made aware of the situation. At halftime, a Liverpool supporter was escorted out by police after he was observed gesturing toward the Ghanaian forward as he was ready to take a throw-in.
Semenyo played on and scored twice in the second half, demonstrating incredible composure in the face of adversity. His efforts almost gave Bournemouth a point, but late goals from Mohamed Salah and Federico Chiesa gave the reigning champions the win.
Adam Smith, the captain of Bournemouth, stated the following after the game: “Totally unacceptable. Kind of in shock, it happened in this day and age. I don’t know how Ant has carried on playing and come up with his goals.”
Smith criticized the lack of progress in tackling racism in football, noting that symbolic gestures have not been enough: “Taking a knee has had no effect. Something more needs to be done. It’s more anger than anything. I told the referee I wanted the fan removed immediately, but the police handled it. The Liverpool players were very supportive of Ant and the rest of the team. I feel sorry for him; he had to take that in front of the whole country. It’s shocking.”
The incident comes in the same week Tottenham condemned racist abuse directed at Mathys Tel online after his penalty miss in the UEFA Super Cup against Paris Saint-Germain.
Bournemouth manager Andoni Iraola lamented that the incident overshadowed what was otherwise an exciting start to the season: “It’s a shame that in the first game of the Premier League, with both teams playing such a good match, we are talking about this. It’s still a big problem, not just in football but in society. We should be talking about how great the game was.”
Liverpool boss Arne Slot also condemned the abuse and praised Semenyo’s resilience: “This is unacceptable in any football stadium, let alone Anfield. I spoke to him after the match and told him we will do everything we can to find this person. Big credit to him; he’s not only a great player but mentally very strong to deliver such a second-half performance after something like that.”
Liverpool issued an official statement following the match: “We condemn racism and discrimination in all forms. It has no place in society or football. The club cannot comment further, as the incident is the subject of an ongoing police investigation, which we will fully support.”
মৌসুমের শুরুতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নেত্রকোনার কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় ছিলেন। বীজতলা তৈরি হলেও জমি চাষ ও চারা রোপণের জন্য পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অনেকেই অপেক্ষায় ছিলেন। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমন মৌসুমে বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীলতা সবচেয়ে বেশি। কারণ এই সময়ে সেচের জন্য আলাদা খরচ সাধারণত করা হয় না। তাই মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির ঘাটতি কৃষকদের মনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছিল।
চলতি আমন মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮ শত ৯৫ মেট্রিক টন।
তবে গত দুই সপ্তাহের ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। মাঠে এখন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। কৃষকরা জমি চাষ, আগাছা পরিষ্কার ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি সমতল করছেন, কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ দলবদ্ধ হয়ে চারা রোপণ করছেন। বীজতলা থেকে চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে জমি প্রস্তুত রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ দেরি হলে চারা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন, যা মূলত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল।
কৃষকরা এখন আশাবাদী। তাদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমনের ভালো ফলন হবে। তবে শ্রমিক সংকট ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে চ্যালেঞ্জও কম নয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে কৃষকদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো। কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করছেন, যাতে মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং চারা রোপণের জন্য জমি সমতল হয়। অন্যদিকে কেউ জমির আগাছা পরিষ্কার করছেন, কারণ আগাছা থাকলে ধানের চারা পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না এবং ফলন কমে যায়। আবার অনেক কৃষক দলবদ্ধ হয়ে চারা রোপণ করছেন, যাতে দ্রুত কাজ শেষ হয় এবং সময়মতো ধান গাছের বৃদ্ধি শুরু হয়।
বীজতলা থেকে চারা বড় হওয়ার সাথে সাথে জমি প্রস্তুত রাখা কৃষকদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ চারা বেশি বড় হয়ে গেলে রোপণের সময় শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য জমি নরম ও আর্দ্র রাখতে পর্যাপ্ত পানির প্রয়োজন হয়। এই পানি মূলত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল, কারণ আমন মৌসুমে সেচের জন্য আলাদা খরচ সাধারণত করা হয় না। তাই মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টির অভাব কৃষকদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত তাদের আশার আলো দেখিয়েছে।
জেলার ১০ উপজেলার মধ্যে ৪ উপজেলা হাওর অধ্যুষিত। বর্ষা মওসুমে হাওরাঞ্চলের বেশির ভাগ জমিই পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে। ফলে এসব হাওরাঞ্চলের জমিতে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হয় না। বেশিরভাগ কৃষকেরই নিজস্ব ট্রাক্টর না থাকায় তারা কাঠা প্রতি একটি নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে অন্যের ট্রাক্টর দিয়ে নিজের জমি চাষ করাতে হচ্ছে। চলতি আমন মৌসুমে সেচের খরচ না থাকলেও রয়েছে কৃষি কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকের সংকট। গ্রামাঞ্চলে এখন আর আগের মতো কৃষি শ্রমিক পাওয়া যায় না। ফলে শ্রমিকদের বেশি টাকা মজুরি দিয়ে আমন ধান রোপন করা হচ্ছে। স্থান বেধে তাদেরকে মজুরি দিতে হচ্ছে কাঠা প্রতি পাঁচ শত থেকে ছয় শত টাকা। জেলার কৃষকরা দেশি ধানের পরিবর্তে এখন হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বেশি আগ্রহী। অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও মজুরি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের খরচ বেড়েছে। বর্তমানে কাঠা প্রতি রোপণ মজুরি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এছাড়া বীজ, সার ও কীটনাশকের দামও বেড়েছে। ফলে কৃষকরা দেশি জাতের পরিবর্তে হাইব্রিড ধান চাষে বেশি আগ্রহী।
আটপাড়া উপজেলার কৃষক আকিকুর রেজা খান খোকন বলেন, “এ বছর ৩০ কাঠা জমিতে আমন চাষ করব। ইতিমধ্যে ১০ কাঠা জমিতে চারা রোপণ করেছি। তবে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে।”
কেন্দুয়া উপজেলার কৃষক আবুল মিয়া বলেন, “সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ বাদ দিয়ে লাভ তেমন থাকে না। অনেক সময় খরচের সমান দামেই ধান বিক্রি করতে হয়। সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, প্রণোদনা ও সার-বীজের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হলে কৃষকরা চাষে আগ্রহী হবে।”
নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ‘চলতি আমন মওসুমে নেত্রকোনা জেলায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৯ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮ শত ৯৫ মেট্রিক টন। শনিবার পর্যন্ত জেলায় ৩৫ হাজার ৫ শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চারা আবাদ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত রোপা আমন আবাদের কার্যক্রম চলবে। কৃষকরা যাতে জমিতে সুষম পরিমাণে সার ব্যবহার করতে পারে তার জন্যে প্রত্যেকটি ইউনিয়নে একজন করে বিসিআইসি ডিলার ও প্রত্যকটি ওয়ার্ডে একজন করে সাব ডিলার রয়েছে। তাদের নামে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ করা হয়েছে’।
ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা সন্ত্রাসী চক্রের মূলহোতা আল-আমিনসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৪)। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে র্যাব-৪, সিপিসি-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর জালিস মাহমুদ খান এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের বালিয়ারপুর, দেওয়নবাড়ী ও আশুলিয়ার পাড়াগ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আল-আমিন, রাজিব হোসেন (৩৮) ও জুয়েল মিয়া (৪৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃজেলায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে বাস, ট্রাক ও গার্মেন্টস পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যানে ডাকাতি করত।
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন এক সাংবাদিক। নিহত সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) স্থানীয় দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর গাজীপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুর মহানগরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পুলিশ জানায়, পাঁচ-ছয়জন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাকে ধাওয়া করে। আতঙ্কিত তুহিন দৌড়ে গিয়ে ঈদগাঁ মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু দুর্বৃত্তরা সেখানেই দোকানের ভেতরে ঢুকে প্রকাশ্যে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
ভিডিও ধারণ করতে গিয়েই সাংবাদিক তুহিন হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় দোকানদার খায়রুল ইসলাম জানান, “তুহিন ভাই হঠাৎ দৌড়ে এসে দোকানে ঢুকে পড়েন। এরপর তিনজন ভিতরে ঢুকে তাকে কুপিয়ে চলে যায়। বাইরে আরও দুজন ছিল, যারা রামদা হাতে পাহারা দিচ্ছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও কুপিয়ে মারার হুমকি দেয়।”
পুলিশের উপস্থিতি ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে গাজীপুরজুড়ে সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিন্দা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি কেবল একজন সাংবাদিক নয়—স্বাধীন মতপ্রকাশ ও পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপরই আঘাত।
ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা দেখে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মো. রবিউল হাসান বলেন, “ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও কিছু ক্লু আমাদের হাতে এসেছে। আমরা অভিযানে নেমেছি। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।”
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন খান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামে। সাহসী প্রতিবেদনের জন্য সহকর্মীদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু গণমাধ্যমের জন্য এক বড় ধরনের শোক এবং উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাংবাদিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীরা দ্রুত বিচার ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরকার নিবন্ধিত মানবাধিকার সংগঠন সোসাইটি ফর হিউম্যান রাইটস (এসএইচআর) ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য ৬১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করেছে। সম্প্রতি সংগঠনটির প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে এই কমিটি গঠিত হয়।
নতুন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট সোহেল মো. ফজলে রাব্বী। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন সাংবাদিক ও গবেষক আ ফ ম মশিউর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন এডভোকেট মুহা. সাইদুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়া এডভোকেট আব্দুল আউয়াল শামীম পাটওয়ারী সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মো. আওলাদ হোসেন নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
কমিটিতে বিভিন্ন মত ও পেশার, বিশেষত মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রায় দুই দশক ধরে মানবতার সেবায় কাজ করে আসা এসএইচআর নিয়মিতভাবে ফ্রি আইনি সহায়তা, মেডিকেল ক্যাম্পিং, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক দিবস পালন, সেমিনার-সভা আয়োজন, শিক্ষা সহায়তা, শীতবস্ত্র ও খাদ্য বিতরণের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের এ ধারাবাহিক প্রচেষ্টা আগামীতেও চলমান থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ।
নতুন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এডভোকেট সোহেল মো. ফজলে রাব্বী। সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হয়েছেন সাংবাদিক ও গবেষক আ ফ ম মশিউর রহমান। সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন এডভোকেট মুহা. সাইদুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহাঙ্গীর আলম।
সচিবালয় এবং এনবিআর এ যেন এক সোনার হরিণের গল্প। দুর্নীতি আর চোরাকারবারি মহা ক্ষেত্রে। সামান্য পিয়নও যেন কোটি টাকার মালিক বনে যায় এক গায়েবি লিলা খেলায়।
দীর্ঘ ১৫ বছর খুনি হাসিনার মদদে চলা ভারতের কলোনাইজেশন যেখানে ছিলো না কোনো সত্য দেখা,শোনা কিংবা বলার অধিকার। ২০২৪ এর জুলাই ছাত্র-জনতার গনঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ পালাবদল। এরই ধারাবাহিকতায় ড. ইউনুস স্যার প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এবং মর্যাদাপূর্ণ আসনে অধিষ্ঠ হন। এসেই শুরু হয় দেশ সংস্কার এর কার্যক্রম।
যার দরুন বাংলাদেশ সরকার ২০২৫ সালের ২৬ মে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে, যা সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশোধন হিসেবে কার্যকর হয়েছে ।
নতুন অধ্যাদেশে সরকারি কর্মচারীদের জন্য চারটি আচরণকে অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে:
১. অনানুগত্য বা শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো কাজে লিপ্ত হওয়া বা অন্যদের এমন কাজে প্ররোচিত করা।
২. ছুটি ছাড়া বা যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা কর্তব্যে অবহেলা করা।
৩. অন্য কর্মচারীদের কর্মবিরতি বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য উসকানি দেওয়া।
৪. অন্য কর্মচারীদের কর্তব্য পালনে বাধা প্রদান করা ।
এই অপরাধগুলোর জন্য শাস্তি হিসেবে নিম্নপদে অবনমন, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।
শাস্তি প্রক্রিয়া ও আপিল:
অভিযোগ গঠনের সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে।
অভিযুক্ত কর্মচারীকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে আরও সাত কর্মদিবসের মধ্যে শাস্তির কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে।
শাস্তি আরোপের পর, দণ্ডিত কর্মচারী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না, যদিও পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করা যাবে ।
NBR(National Board of Revenue) এর সংস্কার কার্যক্রম হিসাবে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে একটি বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে: রাজস্ব নীতি বিভাগ (Revenue Policy Division – RPD) এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (Revenue Management Division – RMD)।
সংস্কারের মূল বৈশিষ্ট্য:
দুটি নতুন বিভাগ: ২০২৫ সালের ১৩ মে জারি করা “রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫” অনুযায়ী, এনবিআর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (IRD) বিলুপ্ত করে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাজস্ব নীতি বিভাগ (RPD): এই বিভাগের দায়িত্ব হবে কর নীতিমালা প্রণয়ন, রাজস্ব সংক্রান্ত গবেষণা ও আন্তর্জাতিক চুক্তি মূল্যায়ন।
রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (RMD): এই বিভাগ রাজস্ব সংগ্রহ, শুল্ক ও ভ্যাট বাস্তবায়ন, এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করবে।
কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া :
উক্ত অধ্যাদেশটি জারির পর থেকেই সরকারি কর্মচারীরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন। তাদের দাবি, এই অধ্যাদেশ কর্মচারীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও আন্দোলনের অধিকার হরণ করে। তারা এটিকে ‘কালো আইন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
এই সংস্কার উদ্যোগের বিরুদ্ধে এনবিআর-এর কর্মকর্তারাও তীব্র প্রতিবাদ জানান। তারা এনবিআর বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বাতিল, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খানের অপসারণ, এবং রাজস্ব সংস্কার উপদেষ্টা কমিটির সুপারিশ প্রকাশের দাবি জানান। এই দাবিতে তারা ১৪ মে থেকে কলম বিরতি ও পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেন, যা দেশের রাজস্ব আদায় ও বাণিজ্য কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
সোমবার (২৬ মে) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নতুন ভবনের নিচে আয়োজিত জরুরি সমাবেশে এ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘ঐক্য ফোরাম’ এর নেতারা। ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের আরেকাংশের সভাপতি মুহা. নূরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের কর্মচারীরা তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষণ :
২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনের সময় যখন দেশবাসী সাক্ষী হচ্ছিলো এক নরপিশাচিনীর নির্মম হত্যাকাণ্ডের,ঠিক তখন-ই সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদের আষ্টেপৃষ্টে গড়ে ওঠা এই গৃহপালিত আমলাকূল সেই নির্মম গণহত্যাকে সমর্থন দিয়ে খুনি হাসিনার পক্ষ অবলম্বন করে কালো ব্যাচ পরে খুনি হাসিনাকে সমর্থন দিয়েছিলো। আজ যখন আওয়ামী লীগ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে তখন যেন তাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ড. ইউনুস স্যারের সংস্কার কর্যক্রমকে বাধা দেওয়ার জন্য সকল পায়তারা ও ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে তারা। এর প্রেক্ষিতে জুলাই আন্দোলনের প্রথম সারির সমন্বয়ক এবং NCP এর দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার টিকে গেলে আপনারা ঠিকই পদলেহন করে চাকরি করতেন। সুতরাং ৫-ই আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে আপনারা যদি জনগণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এ সরকারকে হুমকি দেন ও সংস্কার কার্যক্রমে বাধা দেন, তবে মনে রাখবেন, জনগণই আপনাদের বিকল্প খুঁজে নেবে। হাসনাত বলেন, ‘৫ই আগস্টের আগে কোনো সচিব, কোনো আমলা বা কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কি পদত্যাগ করেছেন। একজনও কি পদত্যাগ করেছেন। রাস্তার মধ্যে নাগরিকদের যে এভাবে গুলি করে হত্যা করছিল, তখন কি একজন সচিব বা আমলার পদত্যাগের খবর এসেছিল? কিন্তু এই সরকারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর তারা সহযোগিতা না করে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। সরকারকে জিম্মি করলে পরিস্থিতি ভালো হবে না বলে মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবির এর কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ নাঈম বলেন,’বাংলাদেশে দুর্নীতির সবচেয়ে বড় আখড়া হচ্ছে এনবিআর। এদের যোগসাজশে হাজার হাজার কোটি টাকা কর ফাঁকি ও দুর্নীতি হয়। সচিবালয়ের পিয়নের শত কোটি টাকার সম্পদের চিত্র আমরা দেখেছি। এই দুই জায়গায় সংস্কার করতে না পারলে, দেশের সার্বিক সংস্কার কখনোই সম্ভব হবে না।কঠোর হন,প্রয়োজনে ১৪৪ ধারা জারি করুন, অধ্যাদেশ প্রয়োগ করুন। দুর্নীতিবাজদের ছাঁটাই করুন। দুদককে কাজে লাগিয়ে সম্পদের হিসাব চান। তারা ঠান্ডা হতে বাধ্য হবে।’
উক্ত আমলাদের এই বিভ্রান্তমূল দাবি ঠেকাতে ইতিমধ্যে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল ঔক্য জোট। সচিবালয়ের সংস্কারবিরোধী আমলাদের অপসারন ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের দাবিতে ‘গণসমাবেশ’ এর ঘোষণা দিয়েছেন তারা আব্দুল গণি রোড (ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনের সামনে)। যার সময় তারা ২৭ মে ২০২৫, সকাল ১১:৩০ মিনিট নির্ধারণ করেছেন।
সরকারি কর্মচারীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা রাষ্ট্রের একটি বড় সংস্কার । এই সংস্কার কার্যক্রমকে যারা বাধাগ্রস্থ করতে চায় তারাই মূলত ফ্যাসিবাদ জিইয়ে রাখতে চায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন নেটিজেনরা বলছেন, জনগণের উচিত সরকারের পাশে দাড়ানো এবং এদের প্রতিহত করতে নানান কর্মসূচি দেওয়া। যদিও প্রথম সারির বৃহৎ রাজনৈতিক দলসমূহ এখনো এই বিষয় নিয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। রাজনৈতিক দলদের পরবর্তী পদক্ষেপেই নির্ধারণ করে দেবে কারা ফ্যাসিবাদ প্রথা বিলুপ্তি চায় আর কারা জিইয়ে রাখতে চায়।