Saturday, January 24, 2026
হোমজাতীয়উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে শহীদ ওসমান হাদীর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত

১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

উত্তরা ইউনিভার্সিটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদীকে স্মরণ করে মিছিল ও গায়েবানা জানাজার নামাজে উপস্থিত ছিলেন কুদরতি শাহ মসজিদের সম্মানিত খতিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত প্রক্টর ড. এ এস এম শাহাবুদ্দিন, বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ডিন ও চেয়ারম্যান,সহ সম্মানিত ফ্যাকাল্টি সদস্যবৃন্দ।

শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন জুলাই আহত যোদ্ধা মোঃ গোলাম রাব্বি, মোঃ নাইমুল ইসলাম খান অনিক এবং ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বৃহত্তর উত্তরা জোন’ ফেসবুক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও পুসাবের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ শাহরিয়ার হোসেন সাগর সহ সকল সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

কুদরতি শাহ মসজিদের সম্মানিত খতিব তার বক্তব্যে বলেন,
“শহীদ শরীফ ওসমান হাদী এমন একজন মানুষ, যিনি দুনিয়া ও আখিরাত, উভয় জগতেই সফল। তার নামের মতোই তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রামের পথ দেখিয়ে গেছেন। তার ইহজাগতিক মৃত্যু হলেও তিনি কিয়ামত পর্যন্ত কোটি বাঙালি মুসলিমের হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।”

মোঃ শাহরিয়ার হোসেন সাগর বলেন,
“নিশ্চয়ই প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু অবধারিত। কিন্তু যদি সেই মৃত্যু গৌরবময় হয়, ইতিহাসকে প্রভাবিত করতে পারে এবং পুরো একটি প্রজন্মকে শহীদি তামান্নায় আকৃষ্ট করে, তাহলে সেই মৃত্যু কি কষ্টের? ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য, বাঙালি মুসলমানের জন্য জীবন উৎসর্গ করা কি শহীদি মৃত্যু নয়?”

তিনি আরও বলেন,
“আমাদের সংগ্রামের ইতিহাস বখতিয়ার থেকে তিতুমীর, নোয়াখালী থেকে বাবরি পর্যন্ত বিস্তৃত। আমাদের ত্যাগের ইতিহাস আবরার, ফাহাদ থেকে হাদী পর্যন্ত গড়িয়ে এসেছে। এই সংগ্রামই আমাদের পরিচয় ও গৌরবের প্রতীক।”

জুলাই আহত যোদ্ধা মোঃ নাইমুল ইসলাম খান অনিক বলেন,
“হাদী নাম উচ্চারণের আগে ‘শহীদ’ না বললে আমি আমার বিপ্লবী গ্রামার অনুযায়ী অপরাধবোধ করবো। আমরা বারবার ঘুমিয়ে পড়ি, আর শহীদ আবরার, ফাহাদ, হাদীরাই এসে আমাদের ঘুম ভাঙিয়ে বলে, এই ভূখণ্ড আমাদের, এখানে সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি বলেন,
“১৯৪৭ সালের দেশপ্রাপ্তি ছিল অসম্পূর্ণ। ১৯৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করি, কিন্তু সেই স্বাধীনতাও ফ্যাসিবাদী অপশক্তি দ্বারা নিপীড়িত ছিল। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব আমাদের সেই অরক্ষিত স্বাধীনতার পুনরুত্থান ঘটিয়েছে।”

অপর জুলাই যোদ্ধা মোঃ গোলাম রাব্বি বলেন,
“আজ আমাদের মাঝে ওসমান হাদী নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া চিন্তা ও বাংলাদেশী সার্বভৌমত্বে বিশ্বাসী ভাইয়েরা রয়েছেন, যারা এই ৫৬ হাজার বর্গমাইল মন ও মননে ধারণ করে। তারা কোনো দাসত্ব মানে না, যেমন মানেননি হাজী শরীয়তুল্লাহ, তিতুমীর।।

তিনি আরও বলেন,
“এই বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশে আর কোনো কলোনিয়াল চিন্তা বা শাহবাগী এক্টিভিজম চলবে না। আমরা উত্তরা ইউনিভার্সিটিতে হাদীর রেখে যাওয়া কালচারাল যুদ্ধ অব্যাহত রাখবো। সে লক্ষ্যে ইনকিলাব মঞ্চ চালুর ঘোষণা দিচ্ছি। আমরা তাত্ত্বিক সংগ্রামের পাশাপাশি রাজপথের লড়াইও চালিয়ে যাবো।”

শোকসভা শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত