নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু, নতুন অভিজ্ঞতা এবং অসংখ্য স্বপ্ন নিয়ে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীরা শুরু করেছেন তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। দীর্ঘ ভর্তি-যুদ্ধ শেষে কাঙ্ক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে নানা পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা। তাদের এই স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরেছেন ‘দ্যা ক্যাম্পাস মিরর’ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তাছিন জায়েফ।
ক্যাম্পাসের মনোরম পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা, সিনিয়রদের সহযোগিতা এবং নতুন বন্ধুদের সান্নিধ্য ইতোমধ্যেই নবীনদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। যদিও নতুন শহর, আবাসন এবং পারিবারিক পরিবেশ থেকে দূরে থাকার মতো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তবুও নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজেদের মানিয়ে নিচ্ছেন তাঁরা।
পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানহা আমিন রাহা বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। এই অর্জনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাবাকে গর্বিত করতে পেরেছি, আর সেটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস-সেবা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই আমাকে একটি সুন্দর পরিচয় দিয়েছে। তাই এর সুনাম রক্ষায় নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সিনিয়রদের কাছ থেকে একটি চিরকুট পেয়েছিলাম, যেখানে লেখা ছিল— ‘Today you are a fresher, tomorrow you’ll inspire others.’ কথাটি আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। চার বছর পর আমি এমন একজন গ্র্যাজুয়েট হতে চাই, যার কাজ ও অর্জন ভবিষ্যতের অনুজদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
রসায়ন বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নীলিমা হক হীরা বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন মনে হয়েছে, জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। নতুন পরিবেশে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও শিক্ষক, সহপাঠী ও সিনিয়রদের আন্তরিক সহযোগিতায় খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছি।
আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো ভালোভাবে পড়াশোনা করে নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। চার বছর পর একজন আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল গ্র্যাজুয়েট হিসেবে দেশের জন্য ইতিবাচক অবদান রাখার স্বপ্ন দেখি।”
মার্কেটিং বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন ওহি বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। ক্যাম্পাসের সুন্দর পরিবেশ এবং সিনিয়র-জুনিয়রদের আন্তরিক বন্ধন আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। নতুন পরিবেশে বড় কোনো সমস্যার মুখোমুখি না হলেও শুরুতে আবাসনের জন্য কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা এবং একটি সফল ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা। চার বছর পর নিজেকে একটি প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে দেখতে চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চাই।
নিজের বিভাগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “মার্কেটিং বিভাগটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। অভিজ্ঞ ও আন্তরিক শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। আশা করি, এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা ভবিষ্যতে আমাকে একজন সফল পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।”
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বসুন্ধরা সরকার মৌ বলেন, “গোবিপ্রবিতে ভর্তি হওয়ার পর আমি অনেক স্বস্তি ও আনন্দ অনুভব করেছি। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়ায় নিজের স্বপ্ন পূরণের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার অনুভূতি হয়েছে। ক্যাম্পাসের শান্ত পরিবেশ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা এবং সিনিয়রদের সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব আমাকে মুগ্ধ করেছে।
আমি শুধু ডিগ্রি অর্জনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, নেতৃত্ব, ভাষাগত ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে চাই। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশ ও সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করি।”
