Sunday, February 1, 2026
হোমসম্পাদকীয়ফেব্রুয়ারী ২০২৫ সংখ্যা

ফেব্রুয়ারী ২০২৫ সংখ্যা

প্রিয় পাঠকবৃন্দ,
ফেব্রুয়ারিতে আমরা ফিরে তাকাই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে, যেখানে আমাদের শ্রদ্ধার স্মৃতিতে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনটি আমাদের মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে সংগ্রাম, যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা আজ আমাদের এক ঐতিহাসিক গৌরব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাষার পাশাপাশি, এই মাসের ক্যাম্পাস নিউজেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের মতো অপসংস্কৃতি, লোডশেডিং, বইমেলা, পরিবেশ সচেতনতা, রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের সংগ্রামের কথাও। আজকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে আসছে, তা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ, সৃজনশীলতা, ও উদ্ভাবনের বিষয়গুলো যা শুধু শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক উৎকর্ষতায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের ক্যাম্পাসগুলোর অবকাঠামোগত উন্নতি, শিক্ষাদান ও গবেষণার মান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্পর্ক এবং সর্বোপরি শিক্ষার পরিবেশ। এই পরিবর্তনগুলো শুধু একাডেমিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ না থেকে, সমাজে তার বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে, যদি আমরা ঠিকভাবে এগুলোর প্রতি মনোযোগী হতে পারি।
তবে, আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশ আজ একাধিক সমস্যার সম্মুখীন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, শিক্ষার মান, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নতি, এমনকি আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের বিভিন্ন দিক সবকিছুর উন্নতি প্রয়োজন। বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোর অনেকেই নানা প্রশাসনিক দিক থেকে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কিছু স্থানে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলো শূন্য, যেমন ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারার পদ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে, ক্যাম্পাসের নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে, আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ, সৃজনশীল, এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের ব্যাপারে আরও অনেক কিছু করার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি খোলামেলা, মুক্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমাদের সকলকে সচেষ্ট হতে হবে, যেখানে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী নিজের দক্ষতা এবং প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে, এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে পারে। শিক্ষার পরিবেশে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, তা আমাদের গুণগত শিক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্রও, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত