Wednesday, May 27, 2026
হোমবাংলাদেশসংবাদ সারাদেশসাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ জেলা নেতৃবৃন্দ

সাতক্ষীরায় ছাত্রশিবিরের কমিটি গঠন নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ জেলা নেতৃবৃন্দ

 

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হট্টগোল ও জেলা নেতাদের অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার (২৭ মে) দুপুরে উপজেলার সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ শাখার সভাপতির দায়িত্ব স্থগিত করা এবং কয়েকজন নেতাকর্মীর সদস্যপদ নিয়ে অসন্তোষের জেরে সম্প্রতি উত্তর ও দক্ষিণ শাখার একাধিক নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলে সংগঠনের ভেতরে অসন্তোষ আরও বেড়ে যায়।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার নতুন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের লক্ষ্যে সখিপুর ফাজিল মাদ্রাসায় যান জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি, অর্থ সম্পাদক ও মাদ্রাসাবিষয়ক সম্পাদক। তবে বঞ্চিত নেতাকর্মীদের সদস্যপদ বাতিলের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে না পারায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে কয়েক দফা হট্টগোলের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক ও স্থানীয় নেতা মাহাবুবুল আলম। তবে প্রথমদিকে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।

খবর পেয়ে দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ও জামায়াত নেতাদের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ জেলা নেতাদের সেখান থেকে বের করে আনা হয়।

উত্তর (দেবহাটা) শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন বলেন, তাদের শাখার ১০ জন নেতাকর্মী পদত্যাগপত্র জমা দিলে জেলা শাখা তাদের সঙ্গে কোনো আলাপ আলোচনা না করেই তা গ্রহণ করেছে। তিনি দাবি করেন, জেলা সভাপতি একক সিদ্ধান্তে সংগঠন পরিচালনা করছেন এবং তার পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা জেলা শাখার সভাপতি জোবায়ের হোসেন বলেন, দেবহাটা শাখার সভাপতি সাফায়েত হোসেন স্বেচ্ছায় কেন্দ্রীয় সভাপতির কাছে আবেদন করেছিলেন এবং সেই আবেদন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দায়িত্ব বণ্টনের জন্য জেলা নেতারা সেখানে গেলে তাদের কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

দেবহাটা থানার ওসি (তদন্ত) রেজাউল করিম বলেন, সংগঠনের বাৎসরিক দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা চলছিল। দায়িত্ব পরিবর্তনের আশঙ্কা থেকেই কিছু নেতাকর্মী উত্তেজিত হয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। পরে আলোচনা সাপেক্ষে ঈদের পর বিষয়টি নিয়ে পুনরায় বসার সিদ্ধান্ত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এমাদুল হক বলেন, জেলা ও উপজেলা শিবিরের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝির কারণে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। ঈদের পর বাকি বিষয়গুলোরও সমাধান করা হবে।

 

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত