Saturday, January 24, 2026
হোমপ্রচ্ছদ রচনাট্রেন্ডিং জীবন ও প্রজন্ম :তৃতীয় নয়নে

ট্রেন্ডিং জীবন ও প্রজন্ম :তৃতীয় নয়নে

ভাবলেশহীন একটা জীবন। এ যেন বানের পানিতে ভেসে চলা নিষ্প্রাণ খড়কুটো! বানের পানি যেদিকে যায়, নিষ্প্রাণ খড়কুটোগুলো সেদিকেই ভেসে চলে। 

আমাদের সমাজে প্রচলিত কথিত ট্রেন্ডগুলোর অবাধ গড্ডলিকা প্রবাহে ভাসতে ভাসতে এ প্রজন্মের তরুণেরা যেন দ্বীন থেকে যোজন যোজন মাইল দূরে হারিয়ে যাচ্ছে। সবচে ভয়ের কথা হলো যে, এ ব্যাপার দুটো যেন তরুণদের এক চক্রাবর্ত নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেন অদ্ভুত একটা প্যারাডক্স। তরুণেরা ট্রেন্ডের পেছনে ছুটছে বলে দ্বীন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। আবার দ্বীন থেকে দূরে থাকার দরুণ না বুঝেই ট্রেন্ডের জোয়ারে ভাসছে!

এই ট্রেন্ড ফলো করার মিছিলের তালিকাটা অনেক দীর্ঘ। আমাদের তরুণেরা পা থেকে শুরু করে মাথা পর্যন্ত ট্রেন্ডের মোড়কে মুড়ে নিতে পারলেই নিজেকে স্মার্ট ভাবে । ঘুম থেকে ওঠা হতে শুরু করে আবার ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত ট্রেন্ডসিক উম্মাদনায় মেতে থাকাকে প্রজন্মের তরুণেরা কুলনেস মনে করে । যেন ট্রেন্ড ফলো করতে পারাটাই জগতের বড় সফলতা!

এই অবাধ ট্রেন্ড ফলোয়িং-এর পেছনে খুব কমন একটা অজুহাত কাজ করে।

-‘ সবাই তো করে!! আমি না করলে কেমন দেখায়!সার্কেলের সবাই তো গেম খেলে। আমি না খেললে কেমন দেখায়! টাইম পাসের জন্য না হয় অল্প একটু গেম খেললাম আমি!’

জাস্ট এমন কিছু ভেবেই প্রজন্মের বড় একটা অংশ গেমিং ট্রেন্ডের অবাধ জলে নাকানি চুবানি খেয়ে বেড়াচ্ছে! সামান্যতম সিরিয়াস হয়ে এতোটুকু ভাবেনা যে আমি একটা গেমের একশোটা লেভেল শেষ করে এই পৃথিবীকে কি দিতে পারছি বা আমি নিজে কি পাচ্ছি! 

অবশ্য এই ট্রেন্ডসিক প্রজন্মকে নিয়ে সবচে বেশি আফসোস করেন আমাদের বড়রাই। সত্তর আশির দশকের কিশোরেরা শুধু আশাহত মুখ নিয়ে বলেই যান যে, প্রজন্ম গেল হায়! গেল হায়! অথচ তারা একটাবারও ভেবে দেখেন না যে, আমরা কি তাদের মত পেয়েছি অবারিত সবুজ মাঠ? গ্রীষ্মের ভরদুপুরে এলাকার সবচেয়ে বড় পুকুরটাতে ডুবসাঁতারের প্রতিযোগিতা করার সুযোগ? কিংবা সুযোগ পেয়েছি কি জোছনাস্নাত সন্ধ্যায় উঠোনে পাটি বিছিয়ে প্রাণভরে গল্প করবার?

কিভাবে পাবো আমরা? আমাদের কিশোরদের সকালের শিশির তো শুকিয়ে যায় কোনো এক কোচিং-এ ছুটতে ছুটতে! মিথ্যে বিনোদনে ভরা শ্রান্ত দুপুর শেষে বিকেলটাও কেটে যায় কোনো এক কোচিং-এ একজন কমার্শিয়াল মানুষের লেকচার নোট করতে করতে…। আর জোৎস্নাভরা সন্ধ্যাটা তো কবেই হোমটিউটরকে লিখে দিতে হয়েছে আমাদের! এই যে সুস্থ বিনোদনের উৎসগুলোকে যে পানিতে চুবিয়ে চুবিয়ে মেরে মেরে ফেলা হচ্ছে সেদিকেই বা ক’জন তাকান!

যেই ছেলেটি কোনো এক সান্ধ্য কোচিং-এ তার ব্যাচমেটকে রেড রোজ দিয়ে প্রোপোজ করে বলে 

-” উই’ল ইউ বি মাই লাইফ পার্টনার? “, সে জানে না  সাইমুম কিবা তিন গোয়েন্দা সিরিজের শিহরণ জাগানো রোমাঞ্চটুকু। সে জানে না কেবল একটা মেয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করতে আরব সাগর পাড়ি দিয়ে সিন্ধুতে ছুটে আসা মুহাম্মদ বিন কাসিমের জলজ্যান্ত থ্রিলারটুকু। সে জানে না মুহাম্মাদ বিন কাসিমের জীবন গতিপথ বদলে দেয়া দুর্বিনীত মহাকাব্যের ফিকশনটুক! জানবে কি করে? সে তো টিভি সিরিজে রোমাঞ্চ বলে রেড রোজ ছাড়া আর কিছুই দেখেনি! থ্রিলার বলতে পাড়ায় পাড়ায় মাস্তানি করে বেড়ানো ছাড়া আর কিছুই জানেনি।

এ প্রজন্মের মুখ থুবড়ে পড়ার বড় একটি কারণ হলো সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার। খালি গলায় অনুপম সুর তুলতে পারা মেয়েটিও হতাশ হয়ে যায় টিকটকে অটিজমসুলভ অঙ্গভঙ্গি করা মেয়েটার লাখখানেক ফলোয়ার দেখে। এলাকার ক্রিকেটে অনবদ্য ব্যাটিং করতে পারা বা ডুব সাঁতারে অনবদ্য সাঁতারু ছেলেটিও হতাশা বয়ে বেড়ায় ফ্রি ফায়ার আর পাবজিতে চিকেন ডিনার না পেয়ে।

ট্রেন্ডসিক তরুণদের দ্বীনবিমুখতা ও সামাজিক বিপর্যয়ের বিশ্লেষণ; স্মরণ করিয়ে দেয় দ্বীনের আলোয় জীবনের সার্থকতা ও আত্মশুদ্ধির পথ।

আবার, খুব সিরিয়াসলি চিন্তা করে এমন একদল তরুণও আছে আমাদের সমাজে । তবে তারা গা ভাসিয়েছে কথিত ক্যারিয়ার গঠন নামক ট্রেন্ডের জোয়ারে। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে খুব করে ভাবলেও যেন দ্বীনের ব্যাপারে কোন খেয়ালই নেই তাদের। ক্যারিয়ার শব্দটা মাথায় এলেই একটা কবিতা মনে পড়ে…

 ” বাবার ইচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার মায়ের ইচ্ছে ডাক্তারি,

  দাদু ইচ্ছে উকিল হব জেঠুর ইচ্ছে মাস্টারি

  ইচ্ছেগুলো কেমন যেন ভেবেই আমি ‘থ ‘

 কেউ আমায় বললে না তো খোকা মানুষ হ! “[১]

‘কাঞ্চন দাশের’ কবিতায় ‘খোকা’ তো মানুষ হতে চেয়েছিল, কিন্তু এখনকার খোকারা আর মানুষ তো হতে চায়ই না। ‘মুমিন’ তো অনেক দূরের কথা!

ট্রেন্ডের জোয়ারে ভাসতে থাকা তরুণদের সবচে ভয়াবহ রোগটি হল রোস্টিং আর ট্রলিং ট্রেন্ড। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমরা একজন আরেকজনকে ক্ষেপিয়ে কিংবা রাগিয়ে প্রচুর আনন্দ পাই।অথচ এ প্রজন্মের আমরা এই আয়াতটি কখনো হৃদয় দিয়ে পড়িই-নি! 

وَيْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةٍ”   

Woe to every scorner and mocker

 “উপস্থিতিতে কিংবা অনুপস্থিতিতে ,মানুষকে নিন্দাকারী প্রত্যেকের জন্য ধ্বংস” [২]

আর এই ট্রল কিবা রোস্টের মোড়কে ছোট্ট ছোট্ট অশ্লীলতাকে সমাজে একেবারে স্বাভাবিক করে তুলি আমরা। অথচ রবের এই বাণীটা কি কখনো আমরা হৃদয় দিয়ে পড়তে পেরেছি!

إِنَّ ٱلَّذِينَ يُحِبُّونَ أَن تَشِيعَ ٱلْفَٰحِشَةُ فِى ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ فِى ٱلدُّنْيَا وَٱلْءَاخِرَةِۚ وَٱللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ 

Indeed, those who like that immorality should be spread [or publicized] among those who have believed will have a painful punishment in this world and the Hereafter. And Allah knows and you do not know.

“নিশ্চয় যারা এটা পছন্দ করে যে, মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ুক, তাদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জানো না।”[৩]

কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে হয়তো অশ্লীলতার প্রচার প্রসার চান না। তবুও অনেকেই স্রোতে গা ভাসিয়ে নিজের অজান্তেই অশ্লীলতার প্রোমোট করে বেড়ান। একবার ফেইসবুকে এক ফ্রেন্ডের পোস্টে এমন একটা অশ্লীলতার বিপক্ষে কমেন্ট করেছিলাম 

ও বলল,

– “আরে এত ছোট্ট একটা ব্যাপারকে এত বড় করে দেখছো কেন?” 

বললাম, ” জানো! মানুষ কখনও পাহাড়ের সাথে হোচট খায়না ছোট পাথরের সাথেই খায়”[৪]

তারপর মেসেঞ্জারে নক দিয়ে বলল,-

-” আচ্ছা তবে বড় পাপ করলে কি হোঁচট খেতে হবে না?” বললাম,বড় পাহাড়ের উপর থেকে ছিটকে পড়ে দৃশ্যটা কল্পনা করতে পারো!

ও চুপ হয়ে গেল। কিন্তু আমি থেমে গেলাম না। ফোনে সরাসরি কল দিয়ে বললাম,

-আচ্ছা, তোমাকে একটা কবিতা শোনাই।আমার লেখা নয়। ইবনুল মু’তাজের লেখা….

لا تحقرن صغيرة أن ,

الجبال من الحصى[৫]

আরবি পঙতি শুনে ও একটু হকচকিয়ে গেল। তারপর তার বাঙলায়নটুকুও শোনালাম।

 ” ‘ছোট পাপ’ বলে কিছু অবহেলা নয়, 

 ছোট নুড়িকণা মিলেই পর্বত হয়! “[৬]

তারপর ওর সাথে আরো কিছু কথা হলো। ওর কন্ঠে যেন অদ্ভুত এক ঘোরলাগা অনুভূতি টের পেলাম। নিজ থেকেই বলে উঠলো এখন থেকে এমনটা আর কখনোই করবেনা।

গল্পটাতো শুনলেন।ফেসবুকীয় এই অশ্লীলতাকে রোধ করতে আপনাকে ‘ডোর টু ডোর’ কাজ করতে হবে। নিজেকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি ধীরে ধীরে নিজের সার্কেলটাকেও পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। এভাবে এক সার্কেল থেকে অন্য সার্কেল চলতেই থাকবে পরিশুদ্ধতার জোয়ার।

যুগ পরিক্রমায় আমরা পথ চলতে চলতে পৌঁছেছি এক ভঙুর পাটাতনে। এখনকার সময়ে সবথেকে বড় ট্রেন্ড হলো একটা ব্র্যান্ডেড লাইফ লিড করা।একটা আসুসের ল্যাপটপ ছাড়া হয় নাকি! টপ মডেলের ফোন , শহরের সেরা ব্র্যান্ডের টি-শার্ট আর সু ছাড়া তো চলাই যায় না!

নিজের পা থেকে মাথা পর্যন্ত একটা করে ব্রান্ডের মোড়ক মুড়িয়ে দিতে পারলেই ভাবি, একটাই তো জীবন! এই জীবনে এতোটুকু ছাড়া আর কিবা দরকার!

এই তাল-লয়হীন জীবনটা নিয়ে আমরা আলাদা করে কিছুই ভাবি না। অথচ আমাদের জীবনাচারের প্রতিভাস হওয়া উচিত ছিল কুরআন ও সুন্নাহ। জীবন ব্যাকরণের অভিধা হওয়া উচিত ছিল একমাত্র ইসলামই!ফররুখের ‘ডাহুক’ কবিতায় আমরা ট্রেন্ড বর্জনের নিমন্ত্রণ পাই..

 “এই ম্লান কদর্য দলে তুমি নও

 তুমি বও

তোমার শৃঙ্খলমুক্ত পূর্ণ চিত্তে জীবনমৃত্যুর

পরিপূর্ণ সুর।”[৭]

কবি ফররুখের এই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়া খুব দরকার। সত্যিই দরকার। কিন্তু কিভাবে…!

[দুই]

আমাদের তরুণ প্রজন্ম যখন অনিঃশেষ সমস্যার অথৈ জলে নাকানিচুবানি খায়, তখন একটু মাথা উঁচু করে তাকাবার চেষ্টা করি….

এ সমস্যার সমাধান কোথায়?? 

  • হ্যাঁ সমাধান আমাদের তরুণদের কাছেই আছে।

দ্বীন থেকে দূরে সরে গেলে জীবন অনিবার্যভাবেই উশৃংখল হয়ে পড়বে। এজন্য দরকার তরুণ প্রজন্মের সাথে দ্বীনের একটা শক্তিশালী সেতুবন্ধন। আর সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারে দ্বীন নিয়ে চলা তরুণেরাই!

তরুণদের কাজ খুব বেশি নয়। শুধুমাত্র বন্ধুদের উঠতে বসতে দ্বীনের কথাটা স্মরণ করিয়ে দিতে হবে। বোঝাতে হবে জীবনাচারের সাথে দ্বীনকে যুক্ত করলেই জীবনটা হয়ে ওঠে সার্থক আর প্রাণোচ্ছল! তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, স্বাদ আর বিস্বাদের মাঝে একটা স্থির বিন্দু আছে। সেই বিন্দুর খোঁজ পায় কেবল মুমিনরাই। এই স্থির বিন্দু মুমিনকে কখনোই অস্থির হতে দেয় না। ওয়াল্লাহি! এতেই কাজ হবে..। স্বয়ং প্রভুই বলে দিয়েছেন। 

“আপনি স্মরণ করিয়ে দিন নিশ্চয়ই এতে উপকার আছে” [৮]

প্রিয় নবীর হাদিসও আমাদের এ সমস্যা থেকে উত্তরণের পাঠ দেয়…।

” একটি বাণী হলেও তুমি পৌছে দাও”  [৯]

যতটুকু জানি ততটুকুই পৌঁছে দিতে হবে। বিশ্বাস করুন মাত্র একটি বাক্যই মানুষের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিতে পারে। মহা সাইক্লোন হয়ে উড়িয়ে দিতে পারে হৃদয়ের অলিন্দে জমে থাকা ধুলোবালি আর মরচেপড়া সব আস্তরণ!

ওমর ইবনুল খাত্তাবকে তো নিশ্চয়ই চেনা আছে আপনার? কি এমন হয়েছিল তার সাথে জানা আছে? রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করতে রওনা হওয়া ওমরেরর পাথর দিল গলে গিয়েছিলো কেবল একটা আয়াত শুনেই!! 

এক বাক্যের ধাক্কার একটা গল্প শোনা যাক। রুপকথার কোনো গল্প নয়।বরং সত্যিকারের গল্প। এক দেশে এক ডাকাত বাস করতো। সেই ডাকাতের ভয়ে এলাকাবাসীকে দিন রাত তটস্থ থাকতে হতো।কখন কি করে বসে! একবার এলাকার এক সুন্দরী রমনীর উপর সেই ডাকাতের নজর পড়লো। ধীরে ধীরে সেই সুন্দরী পড়শীর প্রেমে পড়ে গেলো সে। একদিন রাতে সেই মেয়েটির বাড়িতে ঢোকার জন্য মেয়েটির বাড়ির দিকে রওনা করলো সে। যখন সেই ডাকাত দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকছিলো ঠিক তখনই তার কানে অদ্ভুত এক সুর ভেসে এলো।সেই সুরের সাথে ভেসে আসা বাক্যবান তার অন্তরকে তছনছ করে দিলো।যেন মুহুর্তেই বদলে গেলো তার সব পাপের আকাঙ্খা। দূর থেকে সুললিত কন্ঠে কে যেন তেলাওয়াত করছে…

أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ ٱللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ ٱلْحَقِّ  

Has the time not come for those who have believed that their hearts should become humbly submissive at the remembrance of Allah and what has come down of the truth? 

“যারা ঈমান এনেছে তাদের হৃদয় কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য নাযিল হয়েছে তার কারণে বিগলিত হওয়ার সময় হয়নি ?” [৯]

ব্যস! একটা আয়াতই তার অন্তরকে বিগলিত করে দিল। তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন অবশ্যই ফিরে আসার সময় হয়েছে। তার নাম ছিল ফুজাইল ইবনু ইয়াজ। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত তাবেয়ী। একটি আয়াতেই যেন তার জীবন বদলে গিয়েছিলো।রবের স্মরণে বিগলিত হয়েছিল তার হৃদয়! [১১]

এই গল্পটা বলার একটা কারণ আছে। প্রজন্মের তরুণেরা ট্রেন্ডের সাগরে ডুবসাতার দিয়ে জীবনের প্রাপ্তি খোঁজে, জীবনের সফলতা খুঁজে বেড়ায় ক্যারিয়ার গঠন নামক মরিচিকার ফাঁদে পড়ে এক গাদা তোতাবুলি শেখার মাধ্যমে।অথচ অনন্ত কালের প্রকৃত প্রাপ্তির সমীকরণটাই যেন তাদের কাছে অজানা। এইযে সাদামাটা জীবনাচারের সাথে দ্বীনের যোগফলটা যে প্রাপ্তি আর প্রতিফলে ভরপুর, এটাই বোঝাতে হবে দ্বীনবিমুখী তরুণ প্রজন্মকে। জাস্ট মনে করিয়ে দিতে হবে। একটা রিমাইন্ডারই অন্তরে ঝড় তুলতে পারে। জাগিয়ে তুলতে পারে ঘুমন্ত হৃদয়কে।

ট্রেন্ডসিক প্রজন্মকে সমাধানের পথ দেখাতে দ্বীনকে ছড়িয়ে দিতে হবে। হোক সেটা সোশ্যাল মিডিয়ায়, ফ্রেন্ড সার্কেলের আড্ডায় অথবা সাহিত্য রচনায়। নিজেকে একজন ভ্রাম্যামান দাওয়াহ সেন্টার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।এ দায়িত্ব আমার আপনার সকলেরই।

কোনো মতাদর্শ প্রচারের সবচে বুদ্ধিদীপ্ত উপায় হলো সেই মতাদর্শকে জীবন্ত করে তোলা। একটা বাস্তবিক অবয়বে সেই মতাদর্শের সরুপ ফুটিয়ে তোলা।নিজের ভেতরে ইসলামের সরূপ ফুটিয়ে তুলতে শুরু করে দিন। ইনশাআল্লাহ আপনার কথাগুলো কান ভেদ করে অন্তরে পৌছে যাবে। কাজ করতে করতে হতাশ হবারও কোনো সুযোগ নেই। আমার আপনার রব অন্তর দেখতে পারেন। আপনার আমার প্রচেষ্টাই সুনবুলার[১২] মতো সাতশ গুন হয়ে প্রতিদান হিসেবে জমা হয়ে থাকবে। ইনশাআল্লাহ 

আচ্ছা, আজকের লেখাটা কার জন্য?? কার প্রতি? 

সে উত্তর দিতে প্রিয় দুটি লাইন দিয়ে শেষ করি…. 

 “এই লেখার আমি শুধু আমি নই তুমিও,

  এই লেখার তুমি শুধু তুমি নও আমিও! “[১৩]

=======

তথ্যসূত্র:

১)কবিতা- ইচ্ছে: কাঞ্চন দাস।

২)সুরা হুমাজাহ, ১০৪:০১ 

৪)সুরা আন নুর ২৪:১৯

৪)আলী ইবনু আবি তালিব, 

৫)তাফসিরে ইবনে কাসির, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২১.

৬)শেষরাত্রির গল্পগুলো, পৃ.১২৬ আব্দুল্লাহ মাহমুদ নজীব। 

৭)সাত সাগরের মাঝি, পৃ.৩৪, ফররুখ আহমদ। 

৮)সুরা আ’লা, ৮৭:০৯

৯)সহীহ বুখারি, ৩৪৬১

১০)সুরা হাদিদ ৫৭:১৬

১১)তারিখু দিমাশক, খন্ড ৪৮,পৃ.৩৮৪

 তারিখু বাগদাদ, খন্ড ০৬, পৃ.১৪০

১২)সুরা বাকারা ০২:২৬১

১৩) শাহাদাত খান ফয়সাল রাহিমাহুল্লাহ, ২৪,জানুয়ারি ২০১৯

এই সম্পর্কিত আরও আর্টিকেল দেখুন

একটি উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

সর্বাধিক পঠিত