স্টাফ রিপোর্টার | দ্য ক্যাম্পাস মিরর
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের লতিফ ছাত্রাবাসে আজ ২১ নভেম্বর শুক্রবার ভোরের ভূমিকম্পে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আতঙ্ক। সাত দশকের পুরোনো এ আবাসিক ভবনের নানা স্থানে ফাটল দেখা গেছে, ভেঙে পড়েছে একাধিক রুমের ছাদের অংশ। হঠাৎ ভূমিকম্পের প্রবল ঝাঁকুনিতে দিশেহারা হয়ে পড়েন ছাত্ররা; বহু শিক্ষার্থী দৌড়ে নিচে নেমে প্রাণে বাঁচেন, হন আহত।
প্রায় আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন;সংকুল এই ছাত্রাবাসকে শিক্ষার্থীরা অনেক দিন ধরেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অভিযোগ করে আসছেন। তারই ভয়াবহ বাস্তব চিত্র আজ আবারও দেখা গেল।
শুক্রবার ভোরে বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ঘুমে ছিল। পরীক্ষার সপ্তাহ শেষ হওয়ায় হলের ৭০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল বলে জানায় আবাসিক ছাত্ররা। হঠাৎ পুরো ভবন দুলে ওঠে। কী ঘটছে বুঝে ওঠার আগেই রুম থেকে বের হতে শুরু করে সবাই।



এক আবাসিক শিক্ষার্থী তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন;
“হঠাৎ কাঁপুনিতে ঘুম ভেঙে গেল। চারদিকে শুধু দৌড়াদৌড়ি, চিৎকার। সিঁড়িতে তাকাতেই দেখি শত শত শিক্ষার্থী নিচে নেমে যাচ্ছে। মনে হচ্ছিল;লতিফ ভেঙে পড়েছে, এবারই বুঝি শেষ।”
ভবনটির কয়েকটি ব্লকের ছাদের অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। একাধিক কক্ষে বিম ও কলামে দৃশ্যমান ফাটল তৈরি হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য;
“আর কয়েক সেকেন্ড চললে হয়তো নেপালের মতোই একটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেত।”
এর আগে, হলের ৪ তলার এক কক্ষে ছাদের অংশ ভেঙে একজন শিক্ষার্থীর বেডের ওপর পড়ে। সৌভাগ্যক্রমে তখন তিনি রুমে ছিলেন না। শিক্ষার্থীরা জানান, সেই ঘটনার পরও নতুন হল নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদনের দাবি জানানো হলেও মন্ত্রণালয় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।
ক্যাম্পাস প্রশাসনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের কাছে নতুন হল নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনের বয়স, নড়বড়ে কাঠামো ও আগের নানা দুর্ঘটনা থাকা সত্ত্বেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে তেমন কার্যক্রম দেখা যায়নি।
আজকের ভূমিকম্পের পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আঘাত না লাগলেও আতঙ্কে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দাবি;
“এই হল আর থাকার জায়গা নয়, একটি মৃত্যুকূপ।”
শিক্ষার্থীরা জানান, প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভূমিকম্পের সময় ‘মৃত্যুর কাছ থেকে ফিরে আসা’র অভিজ্ঞতা আজ তাদের আবারও মনে করিয়ে দিল ঝুঁকিপূর্ণ এই আবাসনের বাস্তবতা।

