ফেব্রুয়ারী ২০২৫ সংখ্যা

প্রিয় পাঠকবৃন্দ,
ফেব্রুয়ারিতে আমরা ফিরে তাকাই ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে, যেখানে আমাদের শ্রদ্ধার স্মৃতিতে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিনটি আমাদের মাতৃভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসার প্রতীক। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে সংগ্রাম, যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা আজ আমাদের এক ঐতিহাসিক গৌরব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভাষার পাশাপাশি, এই মাসের ক্যাম্পাস নিউজেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের মতো অপসংস্কৃতি, লোডশেডিং, বইমেলা, পরিবেশ সচেতনতা, রক্তাক্ত ফিলিস্তিনের সংগ্রামের কথাও। আজকের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য যে চ্যালেঞ্জগুলো সামনে আসছে, তা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষত, প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ, সৃজনশীলতা, ও উদ্ভাবনের বিষয়গুলো যা শুধু শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সার্বিক উৎকর্ষতায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের ক্যাম্পাসগুলোর অবকাঠামোগত উন্নতি, শিক্ষাদান ও গবেষণার মান, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সম্পর্ক এবং সর্বোপরি শিক্ষার পরিবেশ। এই পরিবর্তনগুলো শুধু একাডেমিক অঙ্গনে সীমাবদ্ধ না থেকে, সমাজে তার বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে, যদি আমরা ঠিকভাবে এগুলোর প্রতি মনোযোগী হতে পারি।
তবে, আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশ আজ একাধিক সমস্যার সম্মুখীন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক, শিক্ষার মান, ক্যাম্পাসের অবকাঠামোগত উন্নতি, এমনকি আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের বিভিন্ন দিক সবকিছুর উন্নতি প্রয়োজন। বর্তমানে ক্যাম্পাসগুলোর অনেকেই নানা প্রশাসনিক দিক থেকে সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে কিছু স্থানে এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদগুলো শূন্য, যেমন ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারার পদ, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে, ক্যাম্পাসের নিত্য নতুন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে, আমাদের শিক্ষার্থীদের আরও দক্ষ, সৃজনশীল, এবং প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক সচেতনতা এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনের ব্যাপারে আরও অনেক কিছু করার আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে একটি খোলামেলা, মুক্ত পরিবেশ তৈরি করার জন্য আমাদের সকলকে সচেষ্ট হতে হবে, যেখানে প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রী নিজের দক্ষতা এবং প্রতিভা প্রকাশ করতে পারে, এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে এগিয়ে যেতে পারে। শিক্ষার পরিবেশে যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, তা আমাদের গুণগত শিক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞান অর্জনের স্থান নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কেন্দ্রও, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

ইউআইইউ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি।

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। বন্ধের সময়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সাময়িক বন্ধে শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের যে কোনো ধরনের অসুবিধার জন্য ইউআইইউ কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। পরবর্তী নির্দেশনার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং নোটিশ বোর্ড নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেই এই অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের সিদ্ধান্ত এলো। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইউআইইউ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল—বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত, অতিরিক্ত ফি আদায়, মানবিক পরিস্থিতিতে অসহযোগিতা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে।

বিশেষ করে “ইউআইইউ রিফর্ম ১.০” নামে শিক্ষার্থীদের দাবির একটি সিরিজ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল। জুলাই মাসের আন্দোলন, যা “জুলাই বিপ্লব” নামে পরিচিত, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে সচেতনতা এবং অধিকার আদায়ের স্পৃহা জাগিয়ে তোলে।

শিক্ষার্থীরা তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছিলেন:

  • নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপসারণ ও প্রশাসনিক সংস্কার,
  • পরীক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস এবং ফি সংক্রান্ত অসঙ্গতি দূর করা,
  • পূর্বের প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান কর্মসূচি ও আমরণ অনশনের ঘোষণার পর উত্তেজনা চরমে পৌঁছে। আন্দোলনের মুখে ইউআইইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া পদত্যাগ করেন। তার সাথে আরও পদত্যাগ করেন বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান এবং ইনস্টিটিউট পরিচালকরা। তবে পদত্যাগপত্রে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ আনার চেষ্টা শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

অনেক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো দায় স্বীকার করেনি এবং সুষ্ঠু সমাধানের পরিবর্তে সংকট এড়ানোর কৌশল নিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে যারা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শেষ সেমিস্টারে আছেন, তাদের জন্য এই বন্ধের ঘোষণা নতুন করে দুশ্চিন্তার কারণ হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে দ্রুত কার্যক্রম চালু করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় যাতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ফাঁকা। শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ, হতাশা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে চলেছেন। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে শেষ হবে, তা এখন সময়ই বলবে।

UIU ভিসির পদত্যাগের আন্দোলন দমাতে এ কেমন পদত্যাগ পদত্যাগ খেলা!

ক্যাম্পাস প্রতিবেদক

ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (UIU) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) ডঃ আবুল কাশেম মিয়া পদত্যাগ করেছেন। এরপরই একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন ডিন, প্রো-ভিসি ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ‘অযৌক্তিক দাবি’র প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত। তবে শিক্ষার্থীদের ভাষ্যে, তাদের দাবিগুলো ছিল সম্পূর্ণ ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত।

Dr. Md. Abul Kashem Mia (ডঃ মোঃ আবুল কাশেম মিয়া)

শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, টিউশন ফি নিয়ন্ত্রণ, একাডেমিক কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়েও তারা বারবার অবহেলিত হন। ফলে শেষ পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হন তারা।

আন্দোলনকারীরা জানান, তাঁরা চাইছিলেন একটি পরিবেশ যেখানে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সম্মানের সঙ্গে দেখবে এবং তাঁদের সমস্যা শুনে সমাধান করবে। তার বদলে তাঁদের দাবিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রমাণ করেছে, বর্তমান প্রজন্ম নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন। শিক্ষার পরিবেশে স্বচ্ছতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য এ ধরনের প্রতিবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

একজন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা সম্মান চাই, অবহেলা নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে যে অন্যায় চলছিল, আমরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছি।” কিন্তু সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পদত্যাগের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন , এটা নজিরবিহীন সিন্ডিকেটের একটি চাক্ষুস প্রমাণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনাকে অনেকে দেখছেন দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার একটি বড় ইঙ্গিত হিসেবে। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি টেকসই, দায়িত্বশীল প্রশাসন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনের সংশ্লিষ্টরা।

Student clashes have led to a two-day suspension of classes at Dhaka College and City College.

Mirror desk.

The recent clashes among students at Dhaka and City Colleges highlight a troubling trend in academic environments, where tensions can escalate into violence, disrupting the educational experience for all. This two-day class suspension serves as a stark reminder of the urgent need for effective conflict resolution strategies and a greater emphasis on fostering dialogue among students.

After a short break, clashes between students of Dhaka College and Dhaka City College began again around 2 p.m. The clashes began around 11:45 a.m. when a group of Dhaka College students attacked Dhaka City College students and vandalised their campus. Police took position at the scene to control the situation. However, students attacked the police as well. Though agitators left the spot for some time around 1:20 p.m., they again returned to the spot around 2 p.m.

Ultimately, this situation calls for a collective commitment to building a more harmonious academic community that values diversity and promotes peaceful coexistence.

পারভেজ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবিতে ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিবাদ কর্মসূচি

রাজধানীর বনানীতে নির্মমভাবে খুন হওয়া পারভেজ হত্যাকাণ্ডের সঠিক তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

রবিবার শিবিরের প্রতিনিধি দলটি বনানী থানায় গিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এর সাথে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে তারা বলেন, “পারভেজ ছিল এক সচেতন ও দায়িত্বশীল শিক্ষার্থী। তার মতো একজন তরুণের নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু তার পরিবার নয়, পুরো শিক্ষার্থী সমাজকে শোকাহত করেছে।” তারা হত্যার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দেন ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তার সাথে ছিলেন শাখার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃবৃন্দ।

পরে প্রতিনিধি দলটি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. রায়হানা বেগমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহত পারভেজের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি সমবেদনা জানান। উপাচার্যকে দেওয়া শোকবার্তায় বলা হয়, “একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে এভাবে হারানো জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”

ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি রেজাউল করিমের নেতৃত্বে বনানী থানার ওসির সাথে সাক্ষাৎ

ছাত্রশিবির নেতারা এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের মধ্যেও উপস্থিত হন এবং তাদেরকে মনোবল ধরে রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ন্যায়সঙ্গত দাবিতে অটল থাকার আহ্বান জানান। তারা বলেন, “এই দুঃসময়েও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্য দেখিয়ে দিতে হবে যে, অন্যায়কে কখনো মেনে নেওয়া হবে না।”

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশের শিক্ষার্থী সমাজের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আন্দোলন চালিয়ে যেতে সহায়তা প্রদান করবে।

ছাত্রশিবির প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল

পারভেজ হত্যা: একটি ভুল বোঝাবুঝি কীভাবে প্রাণঘাতী পরিণতিতে পৌঁছাল?

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী নবাব পারভেজ এর নির্মম মৃত্যু কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের শিক্ষা দেয় ভুল বোঝাবুঝি এবং অব্যবস্থাপনা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনার সূচনা হয় একেবারে তুচ্ছ একটি বিষয় থেকে। ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সঙ্গে পারভেজ হাসাহাসি করছিলেন। পাশেই বসে থাকা দুই ছাত্রী ভেবে বসেন, ওই হাসাহাসি তাদের নিয়েই। একটি কল্পিত অপমানবোধ থেকে শুরু হয় উত্তেজনা। দুই ছাত্রী বিষয়টি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর।

প্রক্টর অফিসে ডাকা হয় পারভেজকে। সেখানে সে স্পষ্ট করে জানায় তার হাসাহাসির উদ্দেশ্য কোনোভাবে ওই দুই ছাত্রীকে লক্ষ্য করে ছিল না। বরং, বন্ধুদের ব্যক্তিগত আলাপ নিয়েই মজা করছিলেন তিনি। তবুও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাকে ঐ দুই ছাত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। এবং পারভেজ বিনা দ্বিধায় সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

হ্যাঁ, পারভেজ ক্ষমা চেয়েছিল।

কিন্তু ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর থেকেই তার ওপর বাড়তে থাকে চাপ, শুরু হয় হুমকি-ধামকি। শেষ পর্যন্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাহাথির হাসান, বিবিএ বিভাগের মেহেরাজ ইসলাম ও এলএলবি বিভাগের আবু জোহর গিফারী পিয়াস তিনজন শিক্ষার্থী বস্তির একটি কিশোর গ্যাং ভাড়া করে আনে পারভেজের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে।

২০ এপ্রিল, বিকেল চারটায় ক্যাম্পাসের সামনে ওই গ্যাং সদস্যরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় পারভেজ ও তার আরও চার-পাঁচজন বন্ধুর ওপর। গুরুতর আহত অবস্থায় পারভেজকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ক্যাম্পাসে নেমে আসে শোকের ছায়া।

তদন্তে বেরিয়ে আসে ভয়াবহ তথ্য:

সাইবার টিমের সহায়তায় জানা গেছে, হামলাকারী গ্যাংটির নাম ‘বেনসন গ্যাং’। এই গ্যাংয়ের নেতৃত্বে রয়েছে ব্যানসন নাসিম ওরফে আহমেদ নাসিম। গ্যাংয়ের আরও সদস্যরা হলেন—
• ব্যানসন সাকিব
• ব্যানসন নাদিম
• ব্যানসন নাফিজ
• আহম্মেদ ইউনুস
• আহম্মেদ ইউসুফ
• জয়ান ব্রো (বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত)

সন্দেহভাজন ইউনুসের মোবাইল নম্বর ০১৯২৭-৮৩৪১৯৪, যা ট্র্যাক করলে গ্যাং সদস্যদের অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে ধারণা তদন্তকারীদের।

এছাড়াও, এ ঘটনার নেপথ্যে সহায়তাকারী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন ফাতেমা তাহসিন ঐশী, যিনি অভিযুক্ত পিয়াসের প্রেমিকা। তিনি ইউনিভার্সিটি অফ স্কলার্সের বিবিএ বিভাগের ৩য় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।

একটি জীবন শেষ হয়ে গেল, একটি হাসির প্রতিধ্বনি থেমে গেল শুধুমাত্র একপেশে ধ্যানধারণা, ভুল বোঝাবুঝি এবং প্রতিহিংসার বলি হয়ে।

শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
নবাব পারভেজের মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার আজ শোকে মুহ্যমান।
(সামগ্রিক তথ্য সহায়তায় PUSAB)

হত্যায় মদদদাতা ৪ আসামী
হত্যায় মদদদাতা ৪ আসামী
বেনসন গ্যাং
বেনসন গ্যাং
হত্যায় মদদদাতা মাহাথির
হত্যায় মদদদাতা মাহাথির
হত্যায় মদদদাতা পিয়াস
হত্যায় মদদদাতা পিয়াস
বেনসন গ্যাং
বেনসন গ্যাং
বেনসন গ্যাং
বেনসন গ্যাং

প্রাইম এশিয়ার শিক্ষার্থী নবাব পারভেজ হত্যার প্রতিবাদে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ


প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নবাব পারভেজকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পাস চত্বরে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সালাহউদ্দিন শুভ বলেন, “যারা পারভেজ হত্যায় জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে আমরা ঢাকা জজ কোর্ট ও হাইকোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই করবো।”

আরেক শিক্ষার্থী নাঈম আহমেদ খান বলেন, “মব করে একজন শিক্ষার্থীকে হত্যা কোনোভাবেই বৈধতা পেতে পারে না। এই হত্যাকাণ্ডের দায় সরকারকে নিতে হবে এবং সঠিক তদন্ত সুনিশ্চিত করতে হবে।”

সমাবেশ চলাকালে ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এসময় বক্তারা দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান এবং ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

বিক্ষোভ মিছিল
বিক্ষোভ মিছিল
বক্তব্য রাখছেন ইস্ট ওয়েস্ট এর ছাত্রনেতা সালাহউদ্দিন শুভ
বক্তব্য রাখছেন ইস্ট ওয়েস্ট এর ছাত্রনেতা সালাহউদ্দিন শুভ

কাজী ও উত্তরা পরিবহনের হামলায় আহত IUBAT-এর শিক্ষার্থীরা: তিন দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম, না মানলে ‘বিএনএস সেন্টার অবরোধ’ এর ঘোষনা

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় কাজী পরিবহনের স্টাফ ও স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় IUBAT-এর অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করে প্রশাসনকে আগামীকাল সকাল ৯টার মধ্যে আল্টিমেটাম দিয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সামি সওদাগর, লিটন ইসলাম, আলিশান রহমান, আহাদ, টিয়ন এবং আসাদুজ্জামান শিকদার। তারা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বাস ভাড়াকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কাজী পরিবহনের স্টাফরা প্রথমে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করতে গেলে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চালানো হয় পরিকল্পিত হামলা।

ঘটনার পর IUBAT-এর সাধারণ শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন:

১. ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টার মধ্যে হামলায় জড়িত সকল স্টাফ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে হবে।
২. কাজী পরিবহন এবং উত্তরা পরিবহনের মালিককে শিক্ষার্থীদের সামনে এসে প্রকাশ্যে জবাবদিহি করতে হবে।
৩. আহতদের চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহন করতে হবে পরিবহন কর্তৃপক্ষকে।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, উল্লেখিত সময়সীমার মধ্যে যদি প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামীকাল সকাল ৯:১৫ মিনিটে IUBAT-এর মূল ফটকে সমবেত হয়ে ‘বিএনএস সেন্টার অবরোধ’ কর্মসূচি পালন করা হবে।

একজন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী বলেন, “এই হামলা কেবল IUBAT-এর শিক্ষার্থীদের ওপর নয়, এটি পুরো দেশের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা। রাজপথে আমাদের জীবন ঝুঁকিতে থাকবে এটা আমরা আর মেনে নেবো না।”

ঘটনার পরেও এখনো কোনো অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

রাজপথে রক্তাক্ত শিক্ষার্থী: কাজী পরিবহনের বর্বর হামলায় উত্তাল IUBAT


রাজধানীর রাজপথে আবারও শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরালো পরিবহন সেক্টরের বর্বরতা। শনিবার ঢাকার আব্দুল্লাপুর এলাকায় বাস ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় IUBAT-এর ১৫ জন শিক্ষার্থীর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে কাজী পরিবহন এর বাস স্টাফরা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের বরাতে জানা গেছে, বাস ভাড়ার ব্যাপারে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে কাজী পরিবহনের কর্মীরা। পরে বিষয়টির সুরাহা চেয়ে শিক্ষার্থীরা কাউন্টারে গেলে সেখানে ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় বাস স্টাফরা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনায় IUBAT-এর অন্তত শিকদার আসাদুজ্জামান সহ ৫ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত আরও অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীর খোঁজ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে কাজী পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। তাদের দাবি, যতক্ষণ না ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হবে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কাজী পরিবহনের বাস রাজপথে চলতে দেয়া হবে না।

এ বিষয়ে IUBAT-এর এক শিক্ষার্থী বলেন, “এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। প্রতিনিয়ত ঢাকার রাজপথে বাস স্টাফদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও শিক্ষার্থীরা। আজ আমরা মুখ তুলে দাঁড়িয়েছি, কারণ এবার আমাদের সহপাঠীদের রক্ত ঝরেছে।”

শিক্ষার্থীরা জানান, দ্রুত বিচার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ না এলে, তাঁরা ঢাকার প্রবেশদ্বার আব্দুল্লাপুর রুট সম্পূর্ণভাবে অবরোধ করার ঘোষণাও দিতে পারেন।

এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষার্থীরা এখন ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে একতাবদ্ধ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর গাজা’ পদযাত্রা ও সমাবেশে অংশগ্রহণ

১২ এপ্রিল ঢাকা শহর সাক্ষী হলো এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী দীর্ঘ পদযাত্রা শেষে পৌঁছেছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, ‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে অংশ নিতে।

পদযাত্রার সূচনা হয় দুপুর ১২টায়, আফতাবনগরের গেট থেকে। ব্যানার, ফেস্টুন ও ফিলিস্তিনি ১০০ ফুট পতাকা হাতে শিক্ষার্থীরা গাজায় চলমান নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করে তোলেন রাজধানীর রাজপথ। পুরো রুট জুড়েই ঢাকাবাসী এই পদযাত্রাকে স্বাগত জানায় সংহতির ভাষায়।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছে সমবেত ছাত্ররা ‘ফ্রি ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক স্লোগানের পাশাপাশি বাংলায় দেন হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া আহ্বান “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না”, “রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়।”

আয়োজকেরা জানান, “এটি কোনো একক সংগঠনের উদ্যোগ নয়। দেশের বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা গাজাবাসীদের পক্ষে সংহতি জানাতে একত্রিত হয়ে আজকের এই ঐতিহাসিক পদযাত্রা সফল করেছেন। যারা সামনে থেকে কিংবা পেছন থেকে সহযোগিতা করেছেন, সবাইকে জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা।”

সমাবেশে বক্তারা ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এটাই প্রমাণ করে ,বাংলাদেশের তরুণরা শুধুই পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ নয়, তারা জেগে উঠলে ন্যায়ের জন্য রাস্তায় নামতেও জানে।