বুক রিভিউ লেখার কৌশল: অনুভূতির সাজ শিল্প

সাদী মোহাম্মদ সাদ

বইপড়া কেবল একটি অবসর বিনোদন নয়, এটি অনুভূতি, চিন্তা, বোধ ও কল্পনার জগতে এক গভীর ও অনন্য যাত্রা। একটি বই সম্পূর্ণ করার পরও পাঠকের মনে তার চরিত্র, ঘটনাপ্রবাহ, সামাজিক পটভূমি, ভাষার সৌন্দর্য ও নিহিত বার্তা দীর্ঘসময় প্রতিধ্বনিত হয়। কখনো তা চিন্তার খোরাক জোগায়, কখনো আবেগকে আলোড়িত করে, আবার কখনো নতুন দৃষ্টিভঙ্গির পথও খুলে দেয়।

এই পাঠ-পরবর্তী অনুভবকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রকাশ করার অন্যতম মননশীল মাধ্যম হলো বই পর্যালোচনা বা রিভিউ লেখা। একটি সুন্দর রিভিউ শুধু বইটির সারমর্ম উপস্থাপন করে না, বরং পাঠকের নিজস্ব বিশ্লেষণ, অভিজ্ঞতা ও ব্যাখ্যাকে সৃজনশীলভাবে ফুটিয়ে তোলে। এতে একজন পাঠক তার বোঝাপড়া ও উপলব্ধির আলোকে বইটির সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করতে পারেন। একইসঙ্গে এটি অন্য পাঠকদের জন্য হয় পথনির্দেশক। যারা রিভিউ পড়ে বইটি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা লাভ করেন এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বইটি তাঁদের পাঠ-রুচির সঙ্গে মানানসই কি না।

অর্থাৎ, একটি রিভিউ বইপাঠের অভিজ্ঞতাকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে এবং পাঠকদের মধ্যে জ্ঞান ও চিন্তার একটি সৌহার্দ্যমূলক সেতুবন্ধন তৈরি করে।

রিভিউ লেখার মূল উদ্দেশ্য দুটি:
১) নিজের পাঠ-অভিজ্ঞতাকে একটি কাঠামোবদ্ধ বিশ্লেষণে রূপ দেওয়া
২) অন্য পাঠকদের বইটি সম্পর্কে প্রাথমিক, নিরপেক্ষ ও তথ্যসমৃদ্ধ ধারণা দেওয়া

এই পাঠ-পরবর্তী অনুভবকে সুশৃঙ্খলভাবে প্রকাশ করার অন্যতম মননশীল মাধ্যম হলো বই পর্যালোচনা বা রিভিউ লেখা।

লেখক তাঁর অভিজ্ঞতা, ভাষাবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গল্পটি নির্মাণ করেন; কিন্তু রিভিউ লেখক সেই নির্মাণকেই নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করেন। তাই রিভিউতে ব্যক্তিগত মতামত থাকলেও তা যেন শালীন, বস্তুনিষ্ঠ ও যুক্তিনির্ভর হয়, এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

১. শিরোনাম ও ভূমিকা: পাঠককে আগ্রহী করার প্রথম সোপান

একটি শক্তিশালী রিভিউ শুরু হয় আকর্ষণীয় শিরোনাম দিয়ে। শিরোনামে বইয়ের নাম থাকলে পাঠকের জন্য সুবিধা বাড়ে, বিশেষ করে সার্চ ইঞ্জিন থেকেও পাঠক খুব সহজেই রিভিউটি খুঁজে পায়।

শিরোনামের পর আসে সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রভাবশালী ভূমিকা বা ইন্ট্রোডাকশন; যা পাঠককে পরবর্তী অংশে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। ইন্ট্রো এমন হওয়া উচিত,

  • সংক্ষিপ্ত

  • বাহুল্যহীন

  • চিত্তাকর্ষক

  • পাঠকের মনোযোগ ধরে রাখার মতো

অনেকে ইন্ট্রো লেখার চাপ থেকে পুরো লেখাই শুরু করতে পারছেন না, এটি স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে প্রথমে মূল অংশ লিখে শেষে ইন্ট্রো লেখা খুবই কার্যকর একটি কৌশল।

২. কাহিনির সংক্ষেপ: সীমিত পরিসরে স্পষ্ট উপস্থাপন

রিভিউতে বইয়ের কাহিনির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা থাকা উচিত, তবে এটি রিভিউয়ের প্রধান অংশ হতে পারে না।
রিভিউ মানে পুরো গল্প বলে দেওয়া নয়; বরং পাঠককে বই সম্পর্কে কৌতূহলী করে তোলা।

সংক্ষেপ দিতে গিয়ে,

  • স্পয়লার এড়িয়ে চলা

  • কাহিনির মূল ভরকেন্দ্র তুলে ধরা

  • লেখকের গল্প বলার ধরন বোঝানো

এসব বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

৩. প্রেক্ষাপট, ঘরানা ও লেখকের উদ্দেশ্য বিশ্লেষণ

রিভিউ লেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো গল্পের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করা। বই যে সময়, সংস্কৃতি, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা মানসিক অবস্থাকে কেন্দ্র করে লেখা; তা রিভিউতে উল্লেখ করলে পাঠক গল্পটিকে গভীরভাবে বুঝতে পারে।

এছাড়া বইয়ের ঘরানা (genre) পাঠকদের জানানোর দায়িত্বও রিভিউয়ারের,

  • রোমান্স

  • থ্রিলার

  • সায়েন্স ফিকশন

  • ইতিহাস/রাজনীতি

  • আত্মজৈবনিক

  • দর্শন/চিন্তাশাস্ত্র

  • নন-ফিকশন/গবেষণামূলক

ঘরানা জানা পাঠকের বই নির্বাচন সহজ করে। প্রয়োজনে সাদৃশ্যপূর্ণ বই বা ঘটনাও উল্লেখ করা যেতে পারে।

পাঠের পরও থেকে যায় পাঠের রেশ। একটি বই পড়ার পর তা নিয়ে 'জাবর কাটা' বইপ্রেমীদের অন্যতম পছন্দের কাজ। বইয়ের রিভিউ লেখা এই 'জাবর কাটা'র ভালো একটি উপায়। এতে করে নিজের বিশ্লেষণ যেমন উপস্থাপন করা যায়, তেমনি অন্যকে বইটি সম্পর্কে জানানও দেওয়া যায়।
পড়ার পরও বইয়ের রেশ মনে লেগে থাকে। একটি বই শেষ করে সেটি নিয়ে ভাবা বইপ্রেমীদের অন্যতম প্রিয় কাজ। বইয়ের রিভিউ লেখা সেই ভাবনার দারুণ একটি মাধ্যম। এতে নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরা যায়, আবার অন্যদেরও বইটি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়।

৪. বইয়ের শক্তি, সীমাবদ্ধতা ও উন্নতির জায়গা সবগুলোর ভারসাম্য

এই অংশই রিভিউর হৃদয়। এখানে রিভিউয়ার আলোচনা করেন,

  • বইয়ের শক্তি

  • দুর্বলতা

  • কী করলে আরও ভালো হতে পারত

ভালোর কথা বলতে গিয়ে অতিরিক্ত বিশেষণ ব্যবহার করা যাবে না।
দুর্বল দিক বলতে গিয়ে ভাষায় কঠোরতা আনাও সমীচীন নয়।

গঠনমূলক সমালোচনা হলো সবচেয়ে মানসম্মত পথ।

এ অংশে আরও উল্লেখ করা যায়,

  • বইটি কোন ধরনের পাঠকের জন্য উপযোগী

  • গল্পের গতি কেমন

  • চরিত্র নির্মাণ কতটা শক্তিশালী

  • লেখকের ভাষাশৈলী পাঠযোগ্য কিনা

  • থিম বা মূল বার্তা কতটা প্রভাব ফেলে

৫. লেখক পরিচয় ও রচনার পেছনের অভিজ্ঞতা

রিভিউতে লেখকের পরিচিতি সংক্ষেপে তুলে ধরলে পাঠক বইটির প্রকৃতি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারে।
লেখকের,

  • পেশাগত ব্যাকগ্রাউন্ড

  • আগের উল্লেখযোগ্য কাজ

  • এই বই লেখার আগের অভিজ্ঞতা

এসব তথ্য থাকলে রিভিউটি আরও সমৃদ্ধ হয়।

৬. উদ্ধৃতি যোগ: রিভিউতে প্রাণ আনতে কার্যকর উপাদান

সংক্ষিপ্ত ও প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি রিভিউকে আরও জীবন্ত করে তোলে।
একটি গ্রহণযোগ্য সংলাপ বা লাইন বইটির অনুভব পাঠকের কাছে পৌঁছে দেয়।
তবে উদ্ধৃতির সংখ্যা সীমিত হওয়াই ভালো, ১ বা ২টি যথেষ্ট।

৭. সমাপ্তি: পাঠকের জন্য মূল্যায়ন ও সুপারিশ

শেষাংশে রিভিউয়ার লিখতে পারেন,

  • কারা বইটি পড়লে বেশি উপকৃত হবে

  • কোন ঘরানার পাঠকের কাছে এটি আকর্ষণীয় হবে

  • বইটি পড়া কতটা অভিজ্ঞতামূলক

  • কিংবা নির্দিষ্ট একটি সুপারিশ

এই অংশটিই রিভিউকে নিখুঁতভাবে শেষ করে।

সহকারী সম্পাদক,
দ্যা ক্যাম্পাস মিরর।

সম্পাদকীয়- মে ২০২৫

মে মাস আসে তার দ্বিধাবিভক্ত চরিত্র নিয়ে – একদিকে শ্রমিকের রক্তাক্ত সংগ্রামের স্মৃতি, অন্যদিকে প্রকৃতির স্নিগ্ধ উপহারের সম্ভার। এই মাসটি আমাদের সামনে নিয়ে আসে একই সাথে বেদনা ও আশার চিত্র, যেখানে শিকাগোর হে মার্কেটের সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনের ছায়া পড়ে আজকের বাংলাদেশের গার্মেন্টস শ্রমিকদের ক্লান্ত মুখে। আমরা যখন মে দিবসের বক্তৃতায় শ্রমিকদের মর্যাদার কথা বলি, তখন কলকারখানার ভেতরের বাস্তবতা আমাদের বিবেককে নাড়া দেয় – নিরাপত্তাহীনতা, অনিয়মিত মজুরি আর স্বাস্থ্যসেবার অভাবে জর্জরিত সেই সব মানুষ যাদের হাতের পরিশ্রমে এগিয়ে যায় আমাদের অর্থনীতি।

একই সময়ে বিশ্বজুড়ে ‘মার্চ ফর গাজা’ নামে যে মানবিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় সহিংসতা আর যুদ্ধের নির্মমতা। ফিলিস্তিনি শিশুদের চোখে যে ভয় আমরা দেখি, তা কি আমাদেরই শিশুশ্রমিকদের চোখের প্রতিচ্ছবি নয়? যারা স্কুলের বেঞ্চে বসার বদলে কারখানার যন্ত্রপাতি সামলায়, তাদের জন্য আমাদের সমাজ কতটুকু ভেবেছে? এই প্রশ্নগুলো মে মাসের আলোতে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ মাসে উদ্বেগ জাগিয়েছে ভারতের সীমান্ত নীতি। বাংলাদেশ সীমান্তে তাদের নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি রোহিতদের বাংলাদেশে পাঠাতে অনিচ্ছা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একইসাথে মার্কিন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হ্রাসের খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যে দেশ একসময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পতাকাবাহী ছিল, সেখানে সাংবাদিকদের উপর এই দমন-পীড়ন কি বিশ্ব গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত?

ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার গভীরতর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এই সংঘর্ষ কি কেবল ছাত্রদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নাকি আমাদের সমাজের বৃহত্তর অসুস্থতার প্রকাশ? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিণত হয়, তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কী ধরনের বাংলাদেশ গড়ে তুলছি?

তবে মে মাস শুধু সংকটই নয়, আনন্দও বয়ে আনে। লটকনের টক-মিষ্টি স্বাদ যেমন আমাদের জিভে জল আনে, তেমনি এই ছোট ফলটি আমাদের প্রকৃতির অফুরন্ত দানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই সহজ-সরল উপহারই যেন বলে দেয়, জীবন কতটা সুন্দর হতে পারে যদি আমরা প্রকৃতির সাথে সাযুজ্য বজায় রাখি।

মে মাস শেষ হয় আমাদের জন্য এক গভীর চিন্তা রেখে যায় – শ্রমিকের অধিকার, শিশুর নিরাপত্তা, প্রকৃতির সুরক্ষা এবং শিক্ষার সুযোগ সবই এক সূত্রে গাঁথা। এই মাসটি আমাদের শুধু স্মরণ করায় না, জাগ্রত করে ভাবতে, প্রশ্ন করতে এবং পরিবর্তনের জন্য দাঁড়াতে। কারণ মে মাস কেবল ক্যালেন্ডারের একটি পাতার নাম নয়, এটি বিবেকের ডাক, সময়ের দাবি এবং ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার।

BracU and BSRM open BSRM School of Engineering

Brac University and the BSRM Group of Companies inaugurated the BSRM School of Engineering through a ceremony at the Merul Badda campus on Wednesday, alongside its theme, “Shaping Tomorrow: Innovation for Sustainability,” official logo, and website.

This first-of-its-kind collaboration between academia and industry aims to redefine engineering education in Bangladesh, embed innovation, ethics, and societal responsibility at its core, and prepare a new generation of engineers who will build an inclusive, sustainable, and humane future.

It aligns with the BSRM’s social responsibility initiatives and Brac University founder Fazle Hasan Abed’s belief that education must be inclusive, impactful, and deeply connected to human dignity.

Together, it is meant to show the world that Bangladesh, standing tall in the Global South, is the birthplace of architects for an inclusive future—leaders who will reimagine cities, industries, and societies that prioritize human well-being above all else.

Brac University and BSRM inaugurate BSRM School of Engineering to advance sustainable, inclusive engineering education in Bangladesh
Brac University and BSRM inaugurate BSRM School of Engineering to advance sustainable, inclusive engineering education in Bangladesh

The school is already running critical academic initiatives such as funding advanced research, establishing laboratories, and providing inspirational scholarships for meritorious and financially insolvent students.

Alihussain Akberali, FCA, chairman of the BSRM, believes that businesses, regardless of size, can play a vital role in shaping society and should actively collaborate with the government and other sectors in driving national development.

The establishment of the BSRM School of Engineering, which embodies the company’s commitment to nation-building through education, is a testament to this vision.

“Don’t look outside when your country needs you inside. Stay here. Work here. And build here… Your knowledge, your energy, and your ideas are needed here. If you build a legacy now, it will serve generations to come,” he told students at the ceremony.

“Today, as we inaugurate the BSRM School of Engineering, we reaffirm that education must be a force for dignity, justice, and opportunity,” added Tamara Hasan Abed, chairperson of the Board of Trustees of Brac University.

“We commit to fostering an environment where curiosity is celebrated, where diversity is cherished, and where every student believes they can be a driver of positive change,” she said.

“I believe that this partnership will ensure that knowledge of the industry is put together in a meaningful way by academia and shared with the entire world,” said Professor Syed Ferhat Anwar, vice-chancellor of Brac University.

This is what the Brac and Brac University synergy is about and reflects how BSRM not only does business but also focuses on safety for humanity, he said.

A scholarship recipient, alongside alumni, faculty members, and students, shared their experiences at the launching ceremony.

The event culminated in a lively cultural program and the distribution of prizes for a competition to design T-shirts marking the school’s launch.

Professor Arshad M. Chowdhury, dean of the school, gave the welcome speech while Khairul Basher, director of communications at Brac University, moderated the event.

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো: নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রতিটি ঘরে ঘরে যেয়ে এনসিপির বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে পাড়ায় পাড়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ তৈরি করুন। সরকার ব্যর্থ হলে জনতার আদালতে আওয়ামী লীগ এবং ফ্যাসিজমের বিচার করা হবে।

শুক্রবার (২ মে) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। নাহিদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের নয় মাস পরেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে, এটা আমাদের সামষ্টিক ব্যর্থতা বলে মনে করি। তিনি বলেন, নৌকা মার্কাকে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে। বিচার চলাকালীন সময় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে জুলাই ঘোষণাপত্র এখনো আসছে না।

জাতীয় নাগরিক পার্টি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের আহ্বান: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার দাবি

এ দেশের মানুষ অধিকার আদায়ে অসংখ্যবার রাজপথে নেমেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিচার এবং সংস্কারের জন্যই মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। সাতচল্লিশের আজাদিদের স্বপ্ন লুট হয়েছিল, যার কারণেই মানুষ একাত্তর সালে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল। কিন্তু বাহাত্তর সালে মুজিবাবাদীদের হাতে সেটা বেহাত হয়েছিল। মুজিববাদী সংবিধানের নামে ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামে বাকশাল কায়েম করা হয়েছিল।’

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র দিতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই সনদ তৈরি করতে হবে। তাতে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কথা থাকতে হবে। নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচন করতে হবে। ঢাকা একদিন এই দক্ষিণ এশিয়াকে নেতৃত্ব দেবে।

আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন: আখতার

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি দলটির তৃণমূলের নেতা–কর্মীদের এই আহ্বান জানান। আখতার বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে সারা দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ গড়ে তুলুন। এই ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ প্রশ্নের মীমাংসা করে ছাড়বে। যত দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ প্রশ্নের সমাধান না হয়, তত দিন পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের সদস্যরা কাজ করবেন।

সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, নাহিদা সারওয়ার নিভা, সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের ‘থাকা’র অর্থ

আধুনিক অন্তলোজি মূলত সত্তার স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করে। মার্টিন হাইডেগার (১৮৮৯-১৯৭৬), ইমানুয়েল কান্ট (১৭২৪- ১৮০৪) জঁ-পল সার্ত্র (১৯০৫-১৯৮০) প্রমুখ মহারথী প্রশ্ন করেছেন : অস্তিত্ব (existence) আসলে কী? ‘আমি আছি’ (Dasein) মানে কী? এখানে সত্তাকে (ইবরহম) প্রথাগতভাবে অবজেক্ট হিসেবে না দেখে, সচেতনতা ও উপলব্ধি (awareness and perception) দিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে, অস্তিত্ব কেবল একটি অবজেক্ট বা বস্তু নয়, বরং তা সচেতনতা, উপলব্ধিও বটে। মূলত তা আল্লাহর সৃষ্টি হিসেবে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও উদ্দেশ্যসম্পন্ন বাস্তবতা। অস্তিত্বকে আমরা শুধু একটি ভৌত বা বস্তুগত বাস্তবতা হিসেবে দেখি না, বরং তা আল্লাহর মাকদূর (পরিকল্পনা) ও ইচ্ছার বাস্তবায়ন। এটি মানবজীবনের আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কোনো কিছুই নিছক অবজেক্ট নয়। প্রতিটি সৃষ্টি আল্লাহর পরিচয়, মহিমা এবং পূর্ণতা প্রকাশ করে। এটি একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, যেখানে মানুষ তার বাস্তবতা এবং সৃষ্টির সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্য অনুসরণের চেষ্টা করবে।

ইসলামী ও আধুনিক অন্তলোজির আলোকে ‘আমি আছি’ অর্থ, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক, দায়িত্ব ও অস্তিত্বের আধ্যাত্মিক ও নৈতিক বিশ্লেষণ
Courage man jump through the gap between hill ,Business concept idea

এই অস্তিত্বতত্ত্বে (ক) সৃষ্ট জগত (মাখলুকাত ) ও সৃষ্টিকর্তা (খালিক) আলাদা।

(খ) সৃষ্টির অস্তিত্ব স্রষ্টার ইচ্ছা ও কুন (আদেশ, হও) এর ভিত্তিতে সূচিত।

(গ) ‘সত্য সত্তা’ (আল ওজুদুল হক) একমাত্র আল্লাহ।

তার মানে অস্তিত্ব অধ্যয়নে পশ্চিমা দর্শনের আওয়াজের সাথে ইসলামের কণ্ঠস্বর মিলছে না। ভিন্নতা পরিষ্কার। কিন্তু এখানে কি এই দূরত্ব অতিক্রমের সম্ভাবনাসূত্র নেই? তা আছে বটে?

সমন্বয়ের জন্য কয়েকটি সম্ভাবনা সূত্র : বিষয়, আধুনিক অন্তলোজি, ইসলামী অন্তলোজি, সমন্বয়ের দিক, সত্তার উৎস, অবিরাম অনুসন্ধান, নির্দিষ্ট উৎসহীনতা, আল্লাহই একমাত্র পরম সত্তা, অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা ও নির্ভরতাকে ব্যাখ্যা, মানুষের ভূমিকা, অস্তিত্বের জিজ্ঞাসু, সন্ধানী, প্রশ্নমুখর। (Being-in-the-world) ইবাদত ও প্রতিনিধিত্বকারী, খলিফা।

মানবসত্তার তাৎপর্য ব্যাখ্যায় সেতুবন্ধন : জগতের সত্তা, আপেক্ষিক ও অবস্থানভিত্তিক, সৃষ্ট ও উদ্দেশ্যনির্ভর, সৃষ্টি ও উপলব্ধির সংযোগ, সময় (Time), অস্তিত্বের ভেতর সময়-সম্পৃক্ততা। সময় হলো আল্লাহর সৃষ্ট ও পরীক্ষা, সময়ের ধারণাকে রূপান্তরিত করা।

আধুনিক অন্তলোজি প্রশ্ন করে : ‘আমি কে?’

ইসলামী অন্তলোজি জবাব দেয় : ‘তুমি আল্লাহর সৃষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন সত্তা, আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তনশীল।’

এই প্রশ্ন ও উত্তরকে গভীরভাবে সংলাপে বসানো জরুরি। এর ভেতরে রয়েছে সমন্বয়ের আসল পথ। ইসলাম অস্তিত্ব বা উজুদকে দেখে আল্লাহর গুণ ও সৃষ্টি হিসেবে। ইসলামী দর্শন বলে, উজুদে হাকিকী বা আসল অস্তিত্ব (True Existence) কেবল আল্লাহর।

আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা। (সূরা জুমার, ৩৯:৬২) অর্থাৎ, যেকোনো অস্তিত্ব আল্লাহর সৃষ্টি। তাহলে বাকি সব অস্তিত্বের স্বরূপ কী? বস্তুত নিজস্ব ও স্বয়ংসম্পূর্ণ অস্তিত্ব একমাত্র আল্লাহর বাকি সব অস্তিত্ব ‘উপস্থিত’ (dependent) এবং ‘ধার করা’ (borrowed)। তার মানে হলো, অস্তিত্বকে আমরা দুই ভাগে ব্যাখ্যা করতে পারি। এক. ওয়াজিবুল ওজুদ বা আবশ্যকীয় অস্তিত্ব (আল্লাহ ছাড়া কারো অস্তিত্ব আবশ্যক নয়।) দুই. মুমকিনুল ওজুদ বা সম্ভব অস্তিত্ব (এর মধ্যে আছে সব সৃষ্টবস্তু। যাদের অস্তিত্ব আল্লাহর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল)।

ইসলামের বিচারে অস্তিত্ব মানে কেবল বস্তু নয়, অর্থও। কোনো বস্তুর টিকে থাকাটাই অস্তিত্ব নয়। বরং তার উদ্দেশ্য (Purpose), সত্যতা (Truthfulness) এবং সম্পর্ক (Relationship) ও অস্তিত্বের সাথে যুক্ত। ফলে আমরা আমাদের উদ্দেশ্য থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকলেই অস্তিত্ব সার্থকতা পায় না। আমাদের অস্তিত্বের উদ্দেশ্য আল্লাহর ইবাদত করা। আমার অস্তিত্বকে অর্থবহ করার জন্য আমাকে তা করতে হবে। সময়, স্থান, আত্মা, নৈতিকতা সবই আমার অস্তিত্বের অংশ। আমি এসব কিছু থেকে নিরপেক্ষ নই। ফলে এখানে আমার দায় ও করণীয়ের বিরাট শৃঙ্খলা রয়েছে। সময়ের জন্য আমি জিজ্ঞাসিত হবো, আত্মার পবিত্রতা না থাকলে আমি বিফল হবো, নৈতিকতা হারালে আমি টিকে থাকলেও অর্থ হারাব। তাহলে দেখা যাচ্ছে অস্তিত্বের দুই রূপ। এক. সত্তাগত অস্তিত্ব বা জাতি ওজুদ (Ontological Existence ), যা বস্তু ও আত্মার নিজস্ব অস্তিত্ব। দুই. উপলব্ধিজাত অস্তিত্ব বা মাফহুমী ওজুদ (Experiential Existence) যা অনুভূতি, মানসিকতা, আধ্যাত্মিক উপলব্ধির অস্তিত্ব।

আমার প্রথম রূপটিই আমাকে অর্থবহ করে না। দীপ্ত, তৃপ্ত ও মহিমান্বিত করে না। সে জন্য আমার দ্বিতীয় রূপটি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধু আয়নায় সুন্দর ছবি দেখে আমি নিজেকে পড়তে পারি না। শুধু চিন্তায় নিজেকে অনুভব ও ব্যাখ্যা করে আমি নিজেকে পুরোপুরি পাই না। আমাকে আমার পেতে হয় হৃদয় দিয়ে। হৃদয় দিয়ে নিজেকে ধরতে না পারা আমি আয়নার কাছে খুব সুন্দর হওয়ার পরেও কান্না করি। নিজেকে পাচ্ছি না বলে।

আমি জানি, আমার অস্তিত্ব ক্ষণস্থায়ী : ‘পৃথিবীর সব কিছুই ধ্বংস হবে’ (সূরা রহমান ৫৫:২৬)। আমি নিজেকে নিজস্ব আয়োজনে এখানে নিয়ে আসিনি। আমার অস্তিত্বের আসল কারণ আমি নই। আমার রবের ইরাদা (ইচ্ছা) ও কুদরত (সামর্থ্য, শক্তি) আমাকে অস্তিত্বে এনেছে। অতএব আমার অস্তিত্বের মাপকাঠি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত। অস্তিত্বের মানে কেবল থাকা নয়, বরং সঠিকভাবে থাকা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে। সেভাবে থাকলে আমি থাকি।

আমার এই থাকা Martin Heidegger এর Dasein নয়, যার মানে Being-there- ‘থাকা’, ‘উপস্থিত থাকা’ বা সচেতন অস্তিত্ব। এটা কেবল সেই অস্তিত্ব নয়, যার বড় কাজ নিজের অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তা করতে পারা। এটা কেবল ততটুকু নয় যে, সে জানবে সে আছে এবং তার অস্তিত্ব শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায়। আমার অস্তিত্ব অন্য ও ভিন্ন। আমি আছি মানে আছি তো বটেই। তবে আল্লাহর ইরাদা (ইচ্ছা) ও কুদরতের সাথে লগ্ন হয়ে আছি। আমি নিজেকে চিন্তা করি তো বটেই। তবে ভুলে যাই না ‘আমি থাকা’ (existence) এর মানে হলো এক দান বা নিয়ামাহ (মরভঃ) এবং এক দায়িত্ব বা তাকলিফ, জিম্মাদারি (responsibility)।

অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো আমি এক পরীক্ষা বা ইবতেলায় আছি। আছি এক উদ্দেশ্যপূরণকারী প্রতিনিধি বা খলিফা হিসেবে। ফলে ‘আমি আছি’ মানে শুধু বেঁচে আছি, এতটুকুই নয়, আমার বাঁচার মানে হলো আল্লাহর প্রতিনিধি হয়ে বেঁচে থাকা। এই প্রতিনিধিত্ব এক পরিণতির দিকে আমাকে নিয়ে যায়। আমার দায়িত্ব, কর্তব্য ও উদ্দেশ্য পূরণের সাথে যা যুক্ত। ফলে সচেতনভাবে, প্রতিটি চিন্তা, অভিব্যক্তি ও আচরণ দিয়ে পরিণতির দিকে যাচ্ছি। অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো সচেতনভাবে নিজের পরিণতি নিয়েও ভাবা।

Science symbols and glass container illustration

Heidegger-Gi Dasein যেমন মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে তার অস্তিত্বকে বোঝে, ইসলামী দর্শনও জীবনের মধ্যে মরণের অমোঘ আসন্নতাকে দেখে, এর ফলে চূড়ান্ত ফলাফলকে দেখে। কুরআনের ঘোষণা প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে’ (সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫)। এর মধ্য দিয়ে ইসলাম বলে, ‘আমি আছি’, ‘আমি আল্লাহর দিকে ফিরে যাবো’র চেতনার মধ্যেও আছি। হাইডেগার -এর Dasein অস্তিত্বকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করে, ইসলামে ওজুদতত্ত্ব আমাদের অস্তিত্বকে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে দেখায় এবং আল্লাহর হেদায়েতের মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করে। হাইডেগার জানান, মৃত্যুর দিকে এগোনো অনিবার্য। তারপর কী? তার আর পর স্পষ্ট নয়। কিন্তু ইসলাম বলে, মৃত্যু অবধারিত। তারপর আছে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি। হাইডেগার-এর Dasein নিজের উদ্দেশ্য নিজে খুঁজে নেয়, কিন্তু ইসলামের ওজুদতত্ত্ব আল্লাহর নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুসরণ করে। হাইডেগার-এর Dasein সময়ের মধ্যে অস্তিত্ব বোঝে, ইসলামী দর্শনের ওজুদ কেবল সময়ের মধ্যে নয়, চিরস্থায়ী জীবনের মধ্যেও অস্তিত্বকে দেখে, তার জন্যও অস্তিত্বকে প্রস্তুত করে।

বিচ্ছিন্ন ও একাকী সত্তা : কিন্তু ইসলামী দর্শনের ওজুদ আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত, সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত এবং সমাজের সাথে সম্পর্কিত। নিজের অস্তিত্ব ও দায়িত্ব এখানে হাত ধরাধরি করে চলে। আর তা আল্লাহর দিকে এগুতে থাকে। তার কাছে জীবন একটি আমানত।

এখানে সে নিজের অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয়তাকে জানবে। জানবে যে, আমি আসলে সামর্থ্যবান এবং দুর্বল, সম্ভাবনাময় এবং সীমিত ও দায়িত্ববান এবং নির্ভরশীল। কারণ আমার অস্তিত্ব আংশিক এবং পরিপূর্ণতা প্রত্যাশী। সে জন্য নিরন্তর সচেষ্ট। আল্লাহই পরিপূর্ণ, চিরস্থায়ী ও স্বয়ংসম্পূর্ণ। অতএব আমাদের ‘আমি আছি’ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কুদরত ও ইচ্ছার আয়না মাত্র। আমার অস্তিত্ব আছে মানে পরম অস্তিত্বের অবিমুখী আছি। অতএব ‘আমি আছি’ মানে হলো ‘আমি আল্লাহর দিকে আছি, লগ্ন ও মগ্ন আছি।’ আবার সৃষ্টিজগতে দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে পলায়ন করে বা তাতে কমতি রেখে এই থাকাকে অর্থবহ করা যাবে না। এর মানে পরিষ্কার। অস্তিত্বের সব স্তর এক ঐক্যবদ্ধ নকশায় গাঁথা, যেখানে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজগত পরস্পর সম্পর্কিত। কাউকে বাদ দিয়ে অস্তিত্বের সার্থকতা নয়। তবে সৃষ্টিকর্তা ও সৃষ্টিজগত পরস্পরে সম্পর্কিত হলেও কখনোই এক নয়।

প্রকৃতি ও অস্তিত্ব এখানে ঐশী সত্তার বহিঃপ্রকাশ, কিন্তু আল্লাহর সাথে বস্তুজগতের মিশ্রণ অসম্ভব। উত্তরাধুনিক চিন্তকরা যেমন বলেন, সত্য কোনো একক ভাষায় বা ডিসকোর্সে ধরা পড়ে না, তেমনি মুসলিম দর্শন বলে, মানুষের ভাষা ও যুক্তি অস্তিত্বের পূর্ণ সত্যকে ধরতে অক্ষম। এর সাথে যুক্ত আছে গায়েব বা ইন্দ্রিয়াতীত অদৃশ্য। যার সত্যতত্ত্বের জন্য আমার চাই হেদায়েত। মানুষের অস্তিত্বের অভিজ্ঞতা যেহেতু ব্যক্তির সমাজ, ইতিহাস ও আত্মিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে, অতএব আমার অস্তিত্ববোধ শুধু আমার সাফল্য ব্যর্থতাকে সংজ্ঞায়িত করে না, বরং মানুষের বৃহত্তর জীবন, যাপন ও বিকাশকে প্রভাবিত করে।

Group of Human Hands Holding Together

ফলে মুসলিম বিশ্বদৃষ্টি ও আধুনিক দর্শনের বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে এমন অন্তলোজির প্রয়োজন, যেখানে প্রকৃতি হলো নৈতিকভাবে অর্থবহ এক অস্তিত্ব।

মুসলিম অন্তলজি শুধু আধুনিকতাকে প্রত্যাখ্যান করে না, বরং ঐতিহ্য ও আধুনিক জ্ঞানের মধ্যে সংলাপও গড়ে তোলে। যদিও সায়্যিদ হুসাইন নসরের ভাষা ধার করে বলতে চাই, আধুনিক বৈজ্ঞানিক বস্তুবাদ (scientific materialism) অস্তিত্বের প্রকৃত সারমর্ম ভুলে গেছে।

লেখক : কবি, গবেষক

Rumour Crisis: A Rising Threat 

After the July uprising, Bangladesh has been facing a major problem with the spread of rumours and misinformation. Chief Adviser Muhammad Yunus had earlier warned that rumors are now being used like weapons to destabilize the country, and recent trends prove how serious this issue has become. According to Rumor Scanner, a well-known fact-checking organization, misinformation rose by 58 percent in 2024 compared to 2023. In 2025, the situation is still alarming. In the last three months, they identified 268 false or misleading posts in February, 298 in March, and 296 in April.

Like previous months, April’s rumors mostly targeted national and political topics. Out of all detected cases, 101 were related to national matters, and 95 were political. Religious, international, and communal issues were also included. Particularly concerning were 16 communal rumors, some of which came from Indian accounts, showing that disinformation is not only coming from within Bangladesh but also from beyond the border.

Social media continues to be the biggest platform for spreading fake news. Facebook alone had 276 such cases in April, followed by YouTube 54, Instagram 48, X handle (formerly Twitter) 44, and TikTok 24. Even 15 false stories were spread by mainstream media, which is supposed to be a reliable source of information.

A major target of these campaigns has been high-level political and government figures. Chief Adviser Yunus himself was the subject of 29 false posts. Other advisers like Asif Nazrul and Syeda Rizwana Hasan were also targeted. Political parties such as BNP, Jamaat-e-Islami, and the National Citizens Party (NCP) were also affected. These attacks seem to follow what Prof. Yunus described as attempts by the “defeated side” to weaken public trust in national institutions.

Rumor Scanner also revealed that 138 cases were text-based, 105 were videos, and 53 used images. Of them, 179 were completely false, 66 were misleading, and 48 were distorted.

Rumors in Bangladesh surged 58% in 2024, with 268+ false posts monthly. Social media and politics are main targets, posing a rising threat in 2025.

With the national election coming soon, there is a real danger that the rumor problem will grow even worse. It is very important now for the government, media, and public to work together. Along with strict monitoring, we must improve digital literacy across all groups so that people can learn how to detect false information and rely only on trustworthy sources. Only then can we protect our society from this growing threat.

ছয় ম্যাচ নিষিদ্ধ রিয়াল মাদ্রিদের রুডিগার

কোপা ডেল রে’র উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে রেফারির সঙ্গে অশোভন আচরণের দায়ে রিয়াল মাদ্রিদের ডিফেন্ডার এন্টোনিও রুডিগার ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়।

সেভিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে রুডিগার ছাড়াও বিতর্কে জড়ান রিয়ালের আরও দুই খেলোয়াড়—জুড বেলিংহাম ও লুকাস ভাসকুয়েজ। শেষ বাঁশি বাজার পর রেফারির প্রতিবেদন অনুযায়ী বেলিংহামের বিরুদ্ধে গুরুতর কিছু প্রমাণ না থাকায় তিনি নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পান। তবে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার অপরাধে ভাসকুয়েজকে দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ফাইনালে বার্সেলোনা ৩-২ গোলে জয়ী হয়, আর ম্যাচ শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই বিতর্ক তৈরি হয় রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে।


রেফারির দিকে তেড়ে যাওয়া ও ‘বরফ ছুড়ে’ ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধ রুডিগার

রেফারির দিকে তেড়ে যাওয়া ও ‘বরফ ছুড়ে’ ৬ ম্যাচ নিষিদ্ধ রুডিগার

রুডিগারের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে তার সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের কারণে। মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) তার বাঁ হাঁটুতে সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে, যার ফলে চলতি মৌসুমের বাকি পাঁচটি ম্যাচে তার খেলা হচ্ছে না। নিষেধাজ্ঞার বাকি অংশ আগামী মৌসুমের শুরুতে ভোগ করতে হবে এই জার্মান ডিফেন্ডারকে।

৩২ বছর বয়সী রুডিগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন,

‘গত রাতে আমার আচরণের কোনো অজুহাত নেই। শেষ বাঁশি বাজার আগে আমি একটি বড় ভুল করেছি। আমি রেফারিসহ সকলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি, যাদেরকে আমি হতাশ করেছি।’

স্প্যানিশ ফুটবলে এমন শাস্তির মাত্রা সাধারণত চার থেকে ১২ ম্যাচের মধ্যে হয়ে থাকে। সেই হিসেবে রুডিগার অপেক্ষাকৃত কম শাস্তি পেয়েছেন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এই নিষেধাজ্ঞা ও ইনজুরির কারণে আগামী ১১ মে মৌসুমের দ্বিতীয় এল ক্লাসিকোতেও রিয়ালের ডিফেন্সে তাকে দেখা যাবে না, যা দলটির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

BUBT-তে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘BBA Sports Carnival 2025’

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি

ঢাকা: বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (BUBT)-এর ব্যাবসায় প্রশাসন (BBA) বিভাগের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে এক বর্ণাঢ্য ক্রীড়া উৎসব— ‘BBA Sports Carnival 2025’। আগামী ৭ মে থেকে ১২ মে ২০২৫ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে এই ছয় দিনব্যাপী ক্রীড়া আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম শুধুমাত্র BBA বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এত বড় পরিসরে একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে নেতৃত্ব, দলগত কাজ এবং পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো।

‘BBA Sports Carnival 2025’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে চারটি জনপ্রিয় খেলায়:

১. ক্রিকেট
২. ফুটবল
৩. ক্যারাম
৪. ব্যাডমিনটন

আয়োজকরা আশা করছেন, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ ও আগ্রহ বাড়াবে, পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।

আসন্ন এই ক্রীড়া কার্নিভালের বিস্তারিত সময়সূচি, অংশগ্রহণের নিয়মাবলি এবং অন্যান্য নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ড ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

BBA বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করেন, এই আয়োজন এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে এটি বিভাগের একটি নিয়মিত ও বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক অনুষ্ঠানে পরিণত হবে।

মে দিবসঃ শ্রম কি সংস্কার হবে? 

জাহিদুল ইসলাম

নির্বাহী সম্পাদক, দ্যা ক্যাম্পাস মিরর। 

মে দিবস, শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের ঐক্য, সংগ্রাম ও বিজয়ের প্রতীক। সারা বিশ্বের শ্রমিকরা যেভাবে মুনাফালোভী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অমানবিক শোষণ, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে এসেছে, তা ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। মে দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় শ্রমিকদের ঐতিহাসিক বিজয়ের কথা, যা প্রতিনিয়ত সারা বিশ্বের শ্রমজীবী জনগণকে আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে শহর ও গ্রামের শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা বিপুল। এই জনগণ ক্রমাগত শোষণ ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। সমাজে ধনী-গরীবের বৈষম্য বাড়ছে, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে চলেছে। অথচ শ্রমিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও শ্রম আইন অনেক ক্ষেত্রে কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ রয়েছে। যদিও বাংলাদেশ আইএলও সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ, বাস্তবে তা অনেক সময়ই কার্যকর করা হয় না। শোষণ, লোভ ও ক্ষমতার দাপটে সমাজে হিংসা ও বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং শ্রমিকদের উপর চাপ ও নিপীড়নও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বছর রানা প্লাজা ট্রাজেডির এক যুগ পূর্তি হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ শ্রমিক বিপর্যয়। এই দুর্ঘটনা এক হাজার একশ ত্রিশ শ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নেয়, এবং প্রায় দুই হাজার শ্রমিক গুরুতর আহত হয়।

যদিও এই দুর্ঘটনার পর অনেক ক্ষেত্রেই পরিবর্তন এসেছে, তবুও এখনও শ্রমিকদের নিরাপত্তা, জীবনমান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের উপর চাপের পাশাপাশি মালিকপক্ষের উদাসীনতা, বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

মে দিবসের ইতিহাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো কর্মঘণ্টা কমানোর আন্দোলন, যা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই শুরু হয়েছিল। প্রথমদিকে, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও পরে এটি কর্মঘণ্টা কমানোর দিকে মোড় নেয়। ১৮০৬ সালে ফিলাডেলফিয়ায় জুতা শ্রমিকরা যখন ধর্মঘট করেন, তখন তাদের দৈনিক কাজের সময় ছিল প্রায় ২০ ঘণ্টা। ১৮২০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত কর্মঘণ্টা কমানোর জন্য বেশ কয়েকটি ধর্মঘট হয়। ১৮২৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় মেকানিকদের উদ্যোগে গঠিত হয় প্রথম ট্রেড ইউনিয়ন, যেখানে দৈনিক দশ ঘণ্টা কাজের নিয়ম চালু করার দাবী উঠেছিল।

১৯৫০ সালের পর শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন ও আন্দোলনের জোয়ার বাড়তে থাকে। ১৮৬৬ সালে বাল্টিমোরে ষাটটি ট্রেড ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা মিলিত হয়ে ‘ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা সে বছরেই দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের প্রস্তাবটি গ্রহণ করে। একই প্রস্তাবটি ১ ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল এর জেনেভা কংগ্রেসেও গৃহীত হয়।

১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আট ঘণ্টা কাজের দাবীতে আন্দোলন শুরু হয়, যা মে দিবসের জন্মের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ১৮৮৬ সালে ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার’ ১ মে তারিখে দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের প্রস্তাবটি গ্রহণ করে এবং শ্রমিকদের মধ্যে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সেই বছর, শ্রমিকরা একযোগে ধর্মঘটের ডাক দেন এবং শিকাগো ছিল আন্দোলনের কেন্দ্র।

১৮৮৬ সালের ১ মে শিকাগোতে শ্রমিকদের এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন। এই সমাবেশ শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে শ্রেণী সংহতির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। ৩ মে, শিকাগোর ম্যাককর্মিক ফসল কাটার কারখানায় ধর্মঘটী শ্রমিকদের সমাবেশে পুলিশ আক্রমণ করলে চার শ্রমিক নিহত হন। পরদিন হে মার্কেটে সংঘটিত এক বিস্ফোরণের পর, পুলিশ বাহিনীর উপর আক্রমণের জেরে এক পুলিশ সার্জেন্ট মারা যান এবং এ ঘটনায় আরও চার শ্রমিক ও সাত পুলিশ সদস্য নিহত হন। এই ঘটনার পর শ্রমিক আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে ওঠে। হে মার্কেট চত্ত্বর রক্তে রঞ্জিত করে। এরপর প্রহসনের বিচারে ফাঁসির মঞ্চে নির্বিচারে প্রাণ দেন সংগ্রামী শ্রমিক নেতারা। জন্ম হয় এক মহান বিপ্লবের।

মে দিবসকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক শ্রেণীর সংহতি দিবস হিসেবে উন্নীত করার পেছনে ২ সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল এর রয়েছে অনন্য অবদান। ১৮৮৯ সালে সংগঠনটির প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসে। ঐ কংগ্রেসেই ১ মে তারিখটিকে বিশেষ দিবস হিসেবে উদ্‌যাপনের জন্য চিহ্নিত করা হয়, যা প্রতি বছরই শ্রমজীবী মানুষের একটি মহান দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে।

আমেরিকার শিকাগো শহরের শহীদ শ্রমিকদের অনুপ্রেরণায় ভারতবর্ষেও শ্রমিকদের দাবি আদায়ে ধর্মঘট আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। ১৯২০ সালের দিকে রেল, চা বাগান এবং স্টিমার শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ব্রিটিশ শাসকদের কাঁপিয়ে তোলে। পরবর্তীতে, সুতাকলসহ বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য সংগঠিত হতে থাকে। সেই সময় গড়ে ওঠা ট্রেড ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের অধিকারের জন্য চেষ্টা চালায়, কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ থাকার কারণে মে দিবস গোপনে পালন করা হতো।

এ উপমহাদেশে প্রথম মে দিবসের অনুষ্ঠান ১৯২৩ সালে মাদ্রাজে পালিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা সিঙ্গারাভেলু চেট্টিয়া। তৎকালীন বাংলার শিল্পকেন্দ্র কলকাতায় ১৯২৭ সালে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে মহান মে দিবস পালিত হয়। একই সময়ে তৎকালীন পূর্ব বাংলা অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশে মে দিবস পালন শুরু হয়।

১৯৩৮ সালে নারায়ণগঞ্জে মে দিবস পালনের খবর পাওয়া যায়। সেই সময় থেকেই শ্রমিকরা বিভিন্নভাবে তাদের দাবি আদায়ের জন্য মে দিবসে ধর্মঘট পালন করতে থাকে। মে দিবসে ছুটি দেওয়ার দাবি একসময় সর্বত্র উত্থাপিত হয়। পাকিস্তান আমলেও মে দিবস পালনের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এবং পৃথক পৃথকভাবে শ্রমিকরা উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে মে দিবস উদযাপন করতে থাকে। আমাদের দেশের শ্রমিকরা প্রমাণ করেছেন যে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন থেকে তারা বিছিন্ন থাকতে পারে না। আইন বা কূটকৌশলের মাধ্যমে আন্দোলন স্তব্ধ করা যায় না। ১৯৭০, ১৯৮০, ১৯৮৬, ১৯৯১ সালসহ নানা সময় উল্লেখযোগ্য আন্দোলন হয়েছে। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকার ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণ করে মিটিং নিষিদ্ধ করলেও, সামরিক শাসন উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম পহাড়তলী ওয়ার্কশপে নৌবাহিনীর হামলায় কুনু মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর আন্দোলন গড়ে ওঠে।

১৮৮৬ সালকে ভিত্তি ধরলে, ১ মে ২০২৫ ছিল আন্তর্জাতিক শ্রম দিবসের ১৩৯ বছর। এ সময়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। ১৮৮৬ সালে শিকাগো শহরে শ্রমিকেরা দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলন করেন, যা সহিংসতা ও পুলিশের হাতে হত্যাকাণ্ডের ফলে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে, ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ১ মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে ৮০টিরও বেশি দেশে মে দিবস জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, এবং তাদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়।

work…

বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে মে দিবস সরকারিভাবে পালিত হচ্ছে, যেখানে শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো নানা কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। শ্রমিক-মালিক ঐক্য গড়ে তোলার পাশাপাশি সরকার শ্রম আইন ২০০৬, ন্যূনতম মজুরি বোর্ড, এবং অন্যান্য কল্যাণ তহবিল চালু করেছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কনভেনশনে স্বাক্ষরিত হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় অগ্রগতি সাধন করেছে, তবে এখনও শ্রমিকদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য আরও প্রচেষ্টা প্রয়োজন।শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম শাখার এক স্মারকে শ্রমিককে চাকরিচ্যুতি, ছাঁটাই এবং মহান মে দিবসে কারখানা বন্ধ রাখার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘যৌক্তিক কারণ এবং শ্রম আইনের প্রতিপালন ব্যতীত শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই করা যাবে না। গত ৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আরএমজি বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদ (আরএমজি বিষয়ক টিসিসি)-এর ২০তম সভার এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর গঠিত শ্রম সংস্কার কমিশন সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৪৫০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে ২৫টি বিষয়ে সুপারিশ রয়েছে, যা দেশের শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো:

  • প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক সব শ্রমিকের জন্য শ্রম আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা
  • সব শ্রমিকের জন্য একটি সর্বজনীন জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং প্রতি তিন বছর পরপর পুনর্নির্ধারণ
  • জীবনধারণযোগ্য মজুরি (Living Wage) ভিত্তিতে মজুরি নির্ধারণ, যাতে খাদ্য, বাসস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সঞ্চয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে
  • মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি
  • মজুরি দেরি হলে ক্ষতিপূরণ প্রদান ও আপৎকালীন তহবিল গঠন (দুই মাসের মজুরি সংরক্ষিত থাকবে)
  • শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক
  • ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত শিথিল করা এবং আউটসোর্সিং বন্ধে সুপারিশ
  • নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস
  • স্থায়ী জাতীয় ন্যূনতম মজুরি কমিশন গঠন, যার অধীনে পেশাভিত্তিক উপ-কমিটি থাকবে
  • মজুরি নির্ধারণের সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের সুপারিশ

এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের সাত কোটির বেশি শ্রমিক বিশেষ করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকরা উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবেন।

বাংলাদেশে মে দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিন নয়, এটি শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং তাদের অধিকার অর্জনের প্রতীক। প্রতি বছর ১ মে শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য নানা কর্মসূচি, মিছিল, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা আয়োজন করা হয়। তবে, এদিনের প্রকৃত গুরুত্ব শুধু সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মে দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই শুধু সড়ক, ভবন বা অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; উন্নয়নের প্রকৃত অর্থ হলো মানুষের জীবনমানের উন্নতি, বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের। যখন শ্রমিকদের অধিকার, সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, তখনই সমাজে প্রকৃত উন্নয়ন আসবে।

এদিনের প্রকৃত লক্ষ্য হলো একটি ন্যায়সঙ্গত এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠন, যেখানে প্রতিটি শ্রমিক তার শ্রমের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং সঠিক পুরস্কার পাবে। আমাদের দায়িত্ব হলো শ্রমিকদের জন্য একটি উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি করা, যেখানে তাঁরা শুধু উৎপাদনশীল কাজের অংশ নয়, বরং একটি উন্নত এবং মানবিক সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃত হবে। শ্রমিকদের প্রতি সম্মান, সুরক্ষা এবং ন্যায্যতা প্রদর্শন করেই আমরা একটি আরও শক্তিশালী, টেকসই এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে পারি। মে দিবসের এই মহান বার্তা আমাদের সকলকে উদ্বুদ্ধ করবে, যাতে আমরা একটি মানবিক, ন্যায়সঙ্গত এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারি।

কয়েকটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অধ্যয়ন কৌশল

মিরর ডেস্ক 

অনিয়মিত অধ্যয়ন পদ্ধতি এবং গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যার মাধ্যমে প্রকৃত জ্ঞান অর্জন সম্ভব নয়। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা এমন দশটি পদ্ধতি উপস্থাপন করছি, যেগুলো আন্তর্জাতিক গবেষণায় স্বীকৃত এবং দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় পরীক্ষিত। এই কৌশলগুলো বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও নিয়মানুবর্তিতা প্রয়োজন, তবে ফলাফল নিশ্চিতভাবে ইতিবাচক হবে।

১.  পোমোডোরো কৌশলঃ ২৫ মিনিট নিরবচ্ছিন্ন অধ্যয়নের পর ৫ মিনিটের বিরতি নিন। প্রতি চারটি সেশনের পর ১৫-৩০ মিনিটের দীর্ঘ বিরতি গ্রহণ করুন। দৈনিক সম্ভাব্য সেশন সংখ্যা পূর্বাহ্নেই নির্ধারণ করুন। নিউরোসায়েন্স গবেষণায় প্রমাণিত, এই পদ্ধতি শিক্ষার গভীরতা ৪০% বৃদ্ধি করে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অধ্যয়ন কৌশল: পোমোডোরো, পুনরাবৃত্তি, কর্নেল নোট, পর্যাপ্ত ঘুম ও মস্তিষ্কবান্ধব খাদ্য।

২.  পুনরাবৃত্তি পদ্ধতিঃ পাঠ্য বিষয় পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংক্ষিপ্ত পুনরাবৃত্তি করুন। সপ্তাহান্তে সমন্বিত পুনরাবৃত্তি করুন। মাসিক ভিত্তিতে সামগ্রিক মূল্যায়ন করুন।

স্নায়ুবৈজ্ঞানিক ভিত্তি: এই পদ্ধতি স্মৃতিকে দীর্ঘমেয়াদী স্মৃতি কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করে

৩. কর্নেল পদ্ধতিতে নোট গ্রহণঃ পৃষ্ঠাকে তিনটি কলামে বিভক্ত করুন। ডান পাশে মূল বিষয়বস্তু লিখুন।বাম পাশে সংক্ষিপ্ত সূচি লিখুন। নিচের অংশে সারসংক্ষেপ লিখুন। এই পদ্ধতিতে প্রস্তুত নোট পরীক্ষার আগে দ্রুত পুনরাবৃত্তির জন্য আদর্শ

৪.  সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম

বৈজ্ঞানিক সুপারিশ: রাত ১১টার পূর্বে শয়ন ও সকাল ৬টায় জাগরণ।দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর নিদ্রা। :ঘুমের অভাবে স্মৃতিশক্তি ৪০% পর্যন্ত হ্রাস পায়। 

৫.  মস্তিষ্কের জন্য উপযুক্ত খাদ্যঃ ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (বাদাম, সামুদ্রিক মাছ)। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ফল (ব্লুবেরি, ডালিম)।

বর্জনীয়: অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও প্রক্রিয়াজাত খাবার।

এই কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে সাধারণত ২১ দিনের অনুশীলন প্রয়োজন। প্রথম সপ্তাহে কিছুটা কঠিন মনে হলেও ধারাবাহিকভাবে চর্চা করলে অধ্যয়ন পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। মনে রাখবেন, সফল শিক্ষার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীর মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয় দৈনন্দিন অভ্যাসের মাধ্যমেই।